দিনাজপুরে ভুল সেট কোডে এসএসসি পরীক্ষা

সংগৃহীত ছবি
চলমান এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের একটি কেন্দ্রে ভুল সেট কোডে পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। রবিবার (১০ মে) দিনাজপুর ইকবাল উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর বোরহান উদ্দিন।
এ ঘটনায় কেন্দ্র সচিব সেলিমা সুলতানা ও সংশ্লিষ্ট ট্যাগ অফিসার আনোয়ারুল ইসলামকে চলতি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে রবিবার বিজ্ঞান বিভাগের পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী লটারির মাধ্যমে নির্ধারিত সেট কোডে প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়। সকাল ৯টায় শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক তহিদুল ইসলাম লটারির মাধ্যমে ‘১ নম্বর সেট’ প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশনা দেন। এরপর সংশ্লিষ্ট ট্যাগ অফিসাররা প্রতিটি কেন্দ্রে নির্ধারিত সেটের প্রশ্নপত্র সরবরাহ করেন। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, দিনাজপুর শহরের ইকবাল হাই স্কুল কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা ট্যাগ অফিসার ও কেন্দ্র সচিব বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই না করেই ‘৩ নম্বর সেট’ প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহণ করেন। পরীক্ষার্থীরা সেই প্রশ্নপত্রেই পরীক্ষা শেষ করে। পরীক্ষা শেষে অন্য কেন্দ্রের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রশ্ন মিলিয়ে দেখার সময় বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এরপর থেকেই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।
ভুক্তভোগী এক পরীক্ষার্থীর অভিভাবক শামসুল হুদা জানান, ‘শুধু একটি কেন্দ্রে আলাদা সেট কোডে পরীক্ষা হওয়ায় আমরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। বিষয়টি দ্রুত সমাধান না করা হলে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ শঙ্কায় পড়বে।’
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বোরহান উদ্দিন জানান, ‘ঘটনা জানার পর শিক্ষা বোর্ড জরুরি বৈঠক করেছে। যেহেতু পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে, তাই ওই কেন্দ্রের পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষাটি বিশেষ ব্যবস্থায় মূল্যায়ন করা হবে। শিক্ষার্থীদের ফলে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। তাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘যারা দায়িত্বে অবহেলা করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।’
দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এ এস এম হাসিবুর রহমান জানিয়েছেন, দায়িত্বে অবহেলার কারণে কেন্দ্র সচিব সেলিমা সুলতানা এবং ট্যাগ অফিসার, দিনাজপুর সদর উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলামকে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা বোর্ড তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে সংশ্লিষ্ট সব কেন্দ্রকে আরও সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।




