পুলিশ
পানিতে হাত তুলে বাঁচার চেষ্টা শিশুর, নদীর তলদেশের মাটিতে চেপে ধরে ধর্ষকরা

শিশু নিশামনিকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার আসামিরা— সংগৃহীত
ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় শিশু নিশামনির ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আশরাফুল করিম।
তিনি জানান, ৫ বছর বয়সী এ শিশুটিকে পাশবিক নির্যাতন শেষে রক্তাক্ত অবস্থায় কংস নদীর পানিতে ফেলে দেয় ধর্ষণকারীরা। এরপর নদীর পানিতে ডুবে যেতে থাকলে শিশুটি পানির ওপর হাত উঠিয়ে বাঁচতে চায়। এ ঘটনা দেখে আসামিরা নদীতে নেমে শিশুটিকে নদীর তলদেশের মাটিতে চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করে।
আজ বুধবার দুপুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এক গণশুনানিতে প্রাসঙ্গিক বিষয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এসব কথা জানান আশরাফুল করিম।
‘আমি আসলে কে?’
১৭ জুন ২০২৬
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গত রবিবার বিকালে ধোবাউড়া উপজেলার গোয়াতলা ইউনিয়নের টাঙ্গাহাটি গ্রামে বাড়ির পাশে খেলার সময় নিখোঁজ হয় নিশামনি। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে স্থানীয়রা কংস নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহ উদ্ধারের পর শরীরে আঘাতের চিহ্ন ও রক্তক্ষরণের আলামত পাওয়া গেলে সন্দেহের সৃষ্টি হয় এবং বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।
পরে ধোবাউড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে প্রাথমিকভাবে হত্যার আগে শিশুটিকে নির্যাতনের বিষয়টি সামনে আসে বলে জানায় পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা রাজু মিয়া গত সোমবার ধোবাউড়া থানায় মামলা করেন। মামলার পর এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বাকি দুজনকে আজ বুধবার গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তাররা হলেন আরিফ (১৯), রাকিব (১৮), মারুফ (১৭) ও সায়েম (১৮)।





