বগুড়া
কলেজ কর্তৃপক্ষের ভুলে কপাল পুড়ল দুই প্রতিষ্ঠানের ১১ শিক্ষার্থীর

কোলাজ : আগামীর সময়
টাকা জমা দিয়েও প্রবেশপত্র ও নিবন্ধন কার্ড না পাওয়ায় বগুড়ার মহাস্থান মাহীসওয়ার ডিগ্রি কলেজের ১০ শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষা দিতে পারেননি।
অভিযোগ উঠেছে, কলেজের কম্পিউটার অপারেটর সাব্বির হোসেন শাওন পরীক্ষার্থীদের কাছে থেকে টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করেছেন।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে কলেজে এসে প্রবেশপত্র না পেয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা কলেজের সামনে অবস্থান নেন। অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি জানাজানি হলে কম্পিউটার অপারেটর গা ঢাকা দিয়েছেন।
কলেজ সূত্র ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ বছর মহাস্থান মাহীসওয়ার ডিগ্রি কলেজ থেকে তিন বিভাগে প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ায় বেশ কিছু শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করতে পারেননি। দুই মাস আগে তাদের মধ্যে ১০ শিক্ষার্থীকে অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে ফরম পূরণের দেওয়ার আশ্বাস দেন কম্পিউটার অপারেটর সাব্বির হোসেন শাওন। মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে তিনি চার হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা করে নেন।
গত ২৪ জুন কলেজের অন্যান্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রবেশপত্র ও নিবন্ধন কার্ড বিতরণ করা হলেও ১০ শিক্ষার্থীকে জানানো হয়- বিলম্বে ফরম পূরণ করায় তাদের কাগজপত্র পরে দেওয়া হবে। তবে বৃহস্পতিবার সারা দেশে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হলেও তারা কেউ প্রবেশপত্র বা নিবন্ধন কার্ড পাননি।
বৃহস্পতিবার কলেজের সামনে সম্রাট নামে এক শিক্ষার্থীকে পাওয়া যায়। তিনি জানিয়েছেন, আমার কাছে টাকা নিয়ে কম্পিউটার অপারেটর ফরম পূরণ করে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি যে করেননি এ বিষয় বুঝতেই দেননি। আমাদের বলেছেন- পরীক্ষার আগে সব পেয়ে যাব।
হাশর নামে আরেক শিক্ষার্থীও একইভাবে প্রতারিত হয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, আমাদের জানামতে অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থীর সঙ্গে এই প্রতারণা করেছে।
শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের অভিযোগ, কলেজ কর্তৃপক্ষ ও এক কর্মচারীর প্রতারণার কারণে তাদের শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ মতিউর রহমান বললেন, এ বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে সারিয়াকান্দির চন্দনবাইশা ডিগ্রি কলেজের এক শিক্ষার্থীও ফরম ফিলাপের টাকা পরিশোধ করে পরীক্ষা দিতে পারেননি।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী হলেন চন্দনবাইশা ইউনিয়নের উত্তরপাড়া গ্রামের সুমাইয়া আক্তার। চন্দনবাইশা ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল তার।
শিক্ষার্থীর অভিযোগ, কলেজ কর্তৃপক্ষের গাফলতির কারণে প্রবেশপত্র না পাওয়ায় আমিম পরীক্ষা দিতে পারিনি। এতে আমার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
সুমাইয়া আক্তার বললেন, আমার কাছ থেকে তিন হাজার পাঁচ শ টাকা নিয়েও ফরম পূরণ করে রেজিস্ট্রেশন নম্বর ভুল করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। এ জন্য আমার প্রবেশপত্র আসেনি।
বিষয়টি জানতে চন্দনবাইশা ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আলীমুর রাজীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ঘটনাটি স্বীকার করেন।
তিনি জানিয়েছেন, মেয়েটি খুবই মেধাবী। ঘটনাটি জানার পর আমরাও মর্মাহত। আমাদের শিক্ষকেরও ভুল আছে। মেয়েটি পরীক্ষার দুদিন আগেও যদি আমাদের জানাতো আমরা পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারতাম।




