সিলেটে বন্যা ও টিলাধসের শঙ্কা, প্রস্তুত ৫৩৭ আশ্রয়কেন্দ্র

সংগৃহীত ছবি
টানা ভারী বৃষ্টি এবং ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে সিলেট অঞ্চলের নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। এখনো অধিকাংশ নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে থাকলেও কয়েকটি পয়েন্টে তা বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। সম্ভাব্য আকস্মিক বন্যা ও টিলাধসের আশঙ্কায় জেলা প্রশাসন ৫৩৭টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে। একই সঙ্গে জেলার ১৬০টি ঝুঁকিপূর্ণ টিলা চিহ্নিত করে সেসব এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় সব উপজেলায় পর্যাপ্ত শুকনো খাবার মজুদ রাখা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ টিলা ও পাহাড়সংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারীদের প্রয়োজন হলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।
গত কয়েক দিন ধরে সিলেটে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। এর সঙ্গে ভারতের মেঘালয় ও আসাম থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার জৈন্তাপুর, কানাইঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার নিম্নাঞ্চলে পানি বাড়ছে। জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট, জৈন্তাপুর, চারিকাটা, ফতেহপুর, দরবস্ত ও চিকনাগুল ইউনিয়নের বিভিন্ন হাওর, বিল ও জলাশয়ের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, একইভাবে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় জৈন্তাপুরের বিভিন্ন স্কুল-কলেজে ৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সার্বক্ষণিক তথ্য আদান-প্রদান ও জরুরি সেবার জন্য একটি কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দিয়ে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুনন্দা রায় বলেছেন, ‘সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে সার্বক্ষণিক সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পাহাড় ও টিলাসংলগ্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে। মাইকিংয়ের মাধ্যমে জনগণকে সচেতন করার কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।’
সিলেটের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক পিংকি সাহা জানান, জেলার সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ টিলা এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক করতে মাইকিং চলছে। প্রয়োজন হলে তাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হবে। তিনি বললেন, ‘জেলায় ১৬০টি ঝুঁকিপূর্ণ টিলা চিহ্নিত করা হয়েছে। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় ৫৩৭টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজন হলে আশ্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে। পাশাপাশি সব উপজেলায় পর্যাপ্ত শুকনো খাবার মজুত রাখা হয়েছে এবং মাঠ প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।’
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সিলেট কার্যালয় জানিয়েছে, আগামী তিন থেকে চার দিন ভারতের মেঘালয় অঞ্চলে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে পাহাড়ি ঢলের পানি সিলেটের নদ-নদীতে নেমে এসে পানির স্তর আরও বাড়তে পারে। ফলে সীমান্তঘেঁষা কিছু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে।
পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, সুরমা নদীর পানি অমলশিদ ও কানাইঘাটসহ কয়েকটি পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রমের আশঙ্কা রয়েছে। কুশিয়ারা নদীর পানি শেওলারবাজার পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩১ সেন্টিমিটার নিচে থাকলেও তা ক্রমাগত বাড়ছে।
পাউবো সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বললেন, ‘আগামী তিন থেকে চার দিন মেঘালয়ে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এতে পাহাড়ি ঢল নেমে কিছু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে। তবে উজানের পানি দ্রুত নেমে যাওয়ায় পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা নেই।’
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, ‘সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সিটি করপোরেশন প্রস্তুত রয়েছে। বৃষ্টির মধ্যেও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা মাঠে কাজ করছেন। ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল রাখতে নিয়মিত নজরদারি করা হচ্ছে। নিচু এলাকায় পানি উঠলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আশ্রয়কেন্দ্র ও শুকনো খাবারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।’





