হবিগঞ্জে শেষ মুহূর্তে পশুর দাম বৃদ্ধি, বৃষ্টিতে দুর্ভোগ

সংগৃহীত ছবি
হবিগঞ্জে কোরবানির পশুর হাটে শেষ মুহূর্তে দাম বাড়ার পাশাপাশি বৃষ্টির কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ছাগল ও গরুর দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি কাদায় চলাচলও হয়ে পড়েছে কঠিন।
জেলা সদরসহ বিভিন্ন পশুর হাটে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত ঘুরে দেখা যায়, দুপুরে যে ছাগল ১১ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছিল, সন্ধ্যায় সেটির দাম বেড়ে ১৫ হাজার টাকায় দাঁড়ায়। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে প্রায় ৪০ শতাংশ দাম বেড়ে যাওয়ায় চাপে পড়েন ক্রেতারা।
ব্যবসায়ীরা জানান, হাটে পশু রাখা ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বেড়ে গেছে বৃষ্টির কারণে। ফলে শেষ সময়েও বেড়েছে দাম।
পুরান মুন্সেফী এলাকার আজিজ অ্যান্ড কোম্পানির ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার দুপুরে ১১ হাজার টাকায় একটি ছাগল কিনলেও রাতের দিকে একই ধরনের ছাগল ১৫ হাজার টাকায় কিনতে হয়েছে তাকে।
উত্তর শ্যামলী এলাকার ব্যবসায়ী ও সাংবাদিক নজরুল ইসলাম জানান, সোমবার প্রায় আট মণ ওজনের দুটি গরু ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় কিনেছিলেন তিনি। একই ধরনের গরু মঙ্গলবার রাতে ৩ লাখ টাকায় বিক্রি হতেও দেখেছেন।
বানিয়াচংয়ের কুতুবখানী মহল্লার পাইকার শুকুর আলী বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে এক বাজার থেকে আরেক বাজারে গরু নিয়ে ঘুরছি। খাবার, শ্রমিকদের মজুরি ও বৃষ্টির কারণে খরচ বেড়েছে। এখন পর্যন্ত লোকসানে আছি। দাম না পেলে কসাইখানায় কেজি দরে বিক্রি করব, তাও আসল উঠবে কি না জানি না।’
অন্যান্য পাইকারদেরও ভাষ্য, গত দুই দিন বাজারে তেমন বেচাকেনা হয়নি। অনেক ক্রেতা শেষ মুহূর্তে সরাসরি খামার থেকে পশু কিনে নিচ্ছেন।
বৃষ্টির কারণে জেলার ৬৩টি পশুর হাটেই দুর্ভোগে পড়েছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, জেলায় পারিবারিক ও খামার পর্যায়ে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার গরু প্রস্তুত করা হয়েছে, যেখানে চাহিদা প্রায় ৪৬ হাজার। মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার পশু।
চিকিৎসক মঈনুল হাসান শাকিল জানান, পাঁচ লাখ টাকায় দুটি বড় গরু কিনেছে তার পরিবার। ‘কয়েক বছর ধরেই শেষ দুই দিনে বৃষ্টি হয়। এতে পছন্দের গরু পাওয়া যায় না, দামও বেড়ে যায়। তাই এবার আগেই কিনে নিয়েছি। তবে মঙ্গলবার রাতে ছাগল কিনতে গিয়ে আবারও দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে।’
হবিগঞ্জ পৌর জামায়াতের আমীর আতিকুল ইসলাম সোহাগকে শহরের সুলতানমামুদপুর চৌরাস্তায় দাঁড়িয়ে পশুর দামদর করতে দেখা যায়। তিনি বলেন, কাদার কারণে হাটে যেতে না পেরে এখানে এসেই কেনাকাটা করছেন। শেষ মুহূর্তে দাম বেড়ে যাওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি।
হবিগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নূরুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টির কারণে শেষ সময়ে কেনাবেচায় দুর্ভোগ বেড়েছে এবং দামেও প্রভাব পড়েছে। তার আশা, আবহাওয়া ভালো হলে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং ঈদের দিনও পশু কিনে পরদিন কোরবানি করবেন অনেকে।






