বিশ্বনাথে অবাধে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ পিরানহা মাছ

বিশ্বনাথ উপজেলার বিভিন্ন বাজারে নিষিদ্ধ পিরানহা মাছ প্রকাশ্যে বিক্রির অভিযোগ। ছবি: সংগৃহীত
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার বিভিন্ন বাজারে নিষিদ্ধ পিরানহা মাছ প্রকাশ্যে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি সন্ধ্যার দিকে উপজেলার নতুন বাজার, পুরান বাজার, হাবড়া বাজার, বৈরাগী বাজার ও রামপাশা বাজার ঘুরে অন্যান্য মাছের পাশাপাশি পিরানহা মাছও বিক্রি করতে দেখা গেছে কয়েকজন ব্যবসায়ীকে।
বাজারগুলোতে মাছের পসরা সাজিয়ে প্রকাশ্যেই পিরানহা বিক্রি করা হচ্ছে। বিশ্বনাথ বাজারের মাছ বিক্রেতা সুন্দর আলী বলেন, ‘আমি জানি মাছটি নিষিদ্ধ। কিন্তু সবাই বিক্রি করছে, তাই আমিও বিক্রি করছি।’
এ সময় পিরানহা মাছ কিনতে দেখা যায় উপজেলার ভ্যানচালক নুরুল ইসলামকে। মাছটি কেনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মাছ তো মাছই। সবাই খাচ্ছে, তাই আমিও নিচ্ছি।’ তিনি জানান, প্রতি হালি অর্থাৎ চারটি মাছ ৩০০ টাকার বেশি দরে কিনেছেন। অন্য মাছের তুলনায় পিরানহার দাম কম হওয়ায় এটি কিনেছেন বলে জানান তিনি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সন্ধ্যার দিকে বিশ্বনাথের বিভিন্ন মাছের দোকান ও মৎস্য আড়তে ক্রেতাদের কাছে রূপচাঁদা মাছের নামেও পিরানহা বিক্রি করা হচ্ছে।
মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পিরানহা গোত্রের মাছ আমদানি, বহন, প্রজনন, চাষ, বিক্রি, বাজারজাত, প্রদর্শন ও মজুত নিষিদ্ধ। মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ বিধিমালা, ১৯৮৫-এর ১৬ নম্বর বিধিতে এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। ২০০৮ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি এ বিধি কার্যকর করা হয়।
মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, পিরানহা বাংলাদেশের জলজ পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। শিকারি স্বভাবের এ মাছ দেশীয় মাছ ও জলজ জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে। এ কারণে দেশে পিরানহার চাষ ও বাজারজাত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বিশ্বনাথ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা স্বপন কুমার ধর জানান, পিরানহা মাছ নিষিদ্ধ। উপজেলার বিভিন্ন বাজারে এ মাছ বিক্রি হচ্ছে, এমন খবর তাদের জানা নেই। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




