চোখে আলো নেই, তবু ৭০ বছরেও সুরের পথে পরেশ বাউল

বড় গোপালদী গ্রামের অন্ধ শিল্পী পরেশ বাউল, ছবি: আগামীর সময়
চোখে আলো নেই। তবুও থেমে নেই জীবনের পথচলা। হাতে একতারা আর কণ্ঠে বাউল সুর নিয়ে আজও গ্রাম থেকে গ্রামে ঘুরে বেড়ান পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বড় গোপালদী গ্রামের অন্ধ শিল্পী পরেশ বাউল।
মাত্র ৮ বছর বয়সে গানের জগতে যাত্রা শুরু করেন তিনি। এরপর কেটে গেছে ছয় দশকেরও বেশি। জীবনের নানা প্রতিকূলতা, দারিদ্র্য, সংসারের চাপ ও দৃষ্টিশক্তি হারানোর মতো কঠিন বাস্তবতাও তাকে গান থেকে দূরে সরাতে পারেনি। এখন বয়স ৭০ বছর হলেও লোকগানের প্রতি তার ভালোবাসা আগের মতোই অটুট।
স্থানীয় হাট-বাজার, মেলা ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেই জীবিকা নির্বাহ করেন পরেশ বাউল। মানুষের ভালোবাসা ও শ্রোতাদের দেওয়া অর্থই তার আয়ের প্রধান উৎস। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের সীমিত সহায়তাও পান তিনি।
তার গানে উঠে আসে জীবনসংগ্রাম, মানবতা, প্রেম-বিরহ এবং সমাজের নানা বাস্তব চিত্র। দীর্ঘদিন ধরে লোকগানের চর্চার মাধ্যমে তিনি শুধু একজন শিল্পী হিসেবেই নয়, গ্রামীণ সংস্কৃতির একজন নিবেদিতপ্রাণ ধারক হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছেন।
পরেশ বাউল জানান, গানই তার জীবনের সবচেয়ে বড় ভরসা। মানুষের ভালোবাসা ও শ্রোতাদের উৎসাহ তাকে আজও গান গেয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, লোকসংগীতকে বাঁচিয়ে রাখতে দীর্ঘদিন ধরে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন এই শিল্পী। তবে বয়সের ভার ও আর্থিক সংকটের কারণে তার জীবনযাপন এখন বেশ কষ্টকর। তাদের মতে, পরেশ বাউলের মতো গুণী শিল্পীদের যথাযথ মূল্যায়ন ও সহযোগিতা প্রয়োজন।
সংস্কৃতিপ্রেমীদের অভিমত, পরেশ বাউলের মতো শিল্পীরাই বাংলার লোকজ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে জীবন্ত করে রেখেছেন। রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক সহায়তা বাড়ানো হলে তাদের অবদান আরও বিস্তৃতভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।
দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাসান মাহমুদ মৃধা জানিয়েছেন, সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরেশ বাউলকে বছরে ২৫ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি প্রতিবন্ধী ভাতাও পাচ্ছেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, পরেশ বাউলের মতো শিল্পীরা আমাদের লোকসংস্কৃতির অমূল্য সম্পদ। তাদের অবদান সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।





