চাঁদপুরে কালবৈশাখীর তাণ্ডবে ভুট্টা চাষিদের স্বপ্নভঙ্গ

চাঁদপুরের মতলব উত্তরে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টির থাবায় ভুট্টা চাষে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে। ঝড়ে গাছ উপড়ে যাওয়ার পর এখন টানা বৃষ্টিতে ঘরে তোলা ফসল পচে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। উপজেলার ছেংগারচর পৌরসভার দেওয়ানজীকান্দি গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় শত শত কৃষকের উঠোনে স্তূপ করে রাখা ভুট্টা থেকে বাষ্প বের হতে দেখা গেছে, যা পচনের আগাম সংকেত দিচ্ছে। রোদ না থাকায় ফসল শুকাতে না পেরে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় চাষিরা।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে মতলব উত্তরে ২ হাজার ৪৪০ হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে সাম্প্রতিক ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে অন্তত ৫০ হেক্টর জমির ফসল সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাঠের ফসলের পাশাপাশি উঠোনে রাখা ভুট্টা নিয়েও এখন নতুন সংকট তৈরি হয়েছে।
কৃষি উদ্যোক্তা ইমরান হোসেন তার অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে জানান, গত মাসের ঝড়ে তার ১৫০ শতক জমির ভুট্টা গাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়েছিল। অনেক কষ্টে সেই ফসল সংগ্রহ করে বাড়ির উঠোনে শুকাতে দিলেও টানা বৃষ্টিতে এখন পচন শুরু হয়েছে। তার ভাষ্য, প্লাস্টিকের চট সরালেই ভেতর থেকে গরম বাষ্প বের হচ্ছে। আর কয়েকদিন এমন আবহাওয়া থাকলে সব শেষ হয়ে যাবে। একই গ্রামের কৃষক জসীমউদ্দিন আক্ষেপ করে বললেন, অনেক আশা নিয়ে এবার চাষ করেছিলাম। প্রথমে ঝড়ে গাছ পড়ে গেল, আর এখন উঠোনে রাখা ভুট্টা ঘেমে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আব্দুল জব্বার, দুলাল হোসেন ও শাহজালালসহ আরও অনেক কৃষকের স্বপ্ন এখন বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে যাওয়ার পথে।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, রোদ না থাকায় ভুট্টাগুলো ছড়িয়ে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে স্তূপ করা ভুট্টার ভেতরে অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও তাপ তৈরি হয়ে দ্রুত পচন ধরছে। তবে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী দু-এক দিনের মধ্যে আকাশ পরিষ্কার ও রোদ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল মোহাম্মদ আলী এই পরিস্থিতির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অতিবৃষ্টি ও শিলার কারণে ভুট্টা ও বোরো ধানের ক্ষতির ঝুঁকি বেড়েছে। তিনি পরামর্শ দেন যে, ভুট্টা স্তূপ করে না রেখে সাধ্যমতো ছড়িয়ে শুকাতে হবে, যাতে পচনের মাত্রা কমানো যায়। মূলত ঝড়ের ক্ষতি পুষিয়ে ওঠার আগেই প্রতিকূল আবহাওয়া কৃষকদের মেরুদণ্ড ভেঙে দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।




