একদিকে ‘ব্রাজিল মোড়’, অন্যদিকে হাজার ফুটের আর্জেন্টিনা পতাকা

ছবি: আগামীর সময়
বিশ্বকাপ ফুটবল সামনে রেখে গোপালগঞ্জে শুরু হয়েছে উৎসবের আমেজ। প্রিয় দলকে সমর্থন জানাতে নানা আয়োজন ও প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা। জেলার বিভিন্ন এলাকায় শোভা পাচ্ছে প্রিয় দলের রঙিন পতাকা, ব্যানার ও ফেস্টুন। কোথাও কোথাও বড় পর্দায় একসঙ্গে খেলা দেখার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার রাতইল ইউনিয়নের টুকুবাজার এলাকায় ব্রাজিল সমর্থকেরা ১২টি খুঁটির ওপর ব্রাজিলের পতাকা এবং একটি দীর্ঘাকৃতির পতাকা টাঙিয়েছেন। শুধু তাই নয়, ফুটবলপ্রেমীদের আবেগ ও উচ্ছ্বাসের কারণে এলাকার একটি মোড়ের নামই হয়ে গেছে ‘ব্রাজিল মোড়’।
বিশ্বকাপ ঘিরে এ এলাকায় এখন উৎসবমুখর পরিবেশ। ব্রাজিল সমর্থকেরা শুধু পতাকা টাঙিয়েই থেমে নেই, প্রিয় দলের খেলা উপভোগ করতে বড় পর্দায় একসঙ্গে খেলা দেখার প্রস্তুতিও নিচ্ছেন।
তবে পিছিয়ে নেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার সমর্থকেরাও। একই ইউনিয়নের রাতইল পশ্চিম চরপাড়া গ্রামে তারা প্রায় এক হাজার ফুট দীর্ঘ আর্জেন্টিনার পতাকা টাঙিয়ে নিজেদের সমর্থনের জানান দিয়েছেন। পাল্টা জবাব হিসেবে ওই এলাকাতেই ব্রাজিল সমর্থকেরা টাঙিয়েছেন দীর্ঘ ব্রাজিলের পতাকা।
এ ছাড়া রাতইল গ্রামের বিভিন্ন স্থানে আর্জেন্টিনা সমর্থকেরা ব্যানার ও দীর্ঘ পতাকা টাঙালে তার বিপরীতে ব্রাজিল সমর্থকেরাও নিজেদের প্রিয় দলের পতাকা দিয়ে চারপাশ সাজিয়ে তুলেছেন। ফলে পুরো এলাকাজুড়ে তৈরি হয়েছে বিশ্বকাপের রঙিন আবহ।
স্থানীয় ফুটবলপ্রেমী ও ব্রাজিল সমর্থক রিফাত খাকী জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি ব্রাজিলের সমর্থক। অনেকেই পরিবার বা এলাকার অন্যদের অনুসরণ করে কোনো দলের সমর্থক হয়ে ওঠেন। সময়ের সঙ্গে সেই সমর্থন পরিণত হয় গভীর আবেগ ও ভালোবাসায়। বিশ্বকাপ ঘিরে এখন তিনি প্রিয় দলের খেলা উপভোগ ও উদযাপনের অপেক্ষায় রয়েছেন।
তিনি বলেছেন, ‘টুকুবাজার এলাকায় ১২টি খুঁটির ওপর ব্রাজিলের পতাকা উড়ানো হয়েছে। এমনকি এলাকার একটি মোড়ের নামও রাখা হয়েছে ‘ব্রাজিল মোড়’। বিশ্বকাপ চলাকালে ওই স্থানেই বড় পর্দায় একসঙ্গে বসে ব্রাজিলের খেলা দেখার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।’
অন্যদিকে, আর্জেন্টিনা সমর্থক নিহাদ মীনা বলেছেন, ‘ব্রাজিল সমর্থকদের মতো তারাও বিশ্বকাপের উন্মাদনায় মেতে উঠেছেন। রাতইল পশ্চিম চরপাড়া গ্রামে প্রায় এক হাজার ফুট দীর্ঘ আর্জেন্টিনার পতাকা টাঙিয়ে নিজেদের সমর্থনের জানান দিয়েছেন। বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আরও পতাকা টাঙানোর পরিকল্পনা রয়েছে।’
বিশ্বকাপের উন্মাদনায় গোপালগঞ্জের গ্রামগুলো যেন নতুন রূপ পেয়েছে। স্থানীয়দের মতে, এই উৎসবমুখর পরিবেশ ফুটবলপ্রেমীদের দীর্ঘদিনের আবেগ, উচ্ছ্বাস ও প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ।





