আইনজীবীদের আপত্তিতে ২৮ কোটির ভবন ‘ভুতুড়ে’

নারায়ণগঞ্জ শহরের কালীরবাজার পুরাতন কোর্ট এলাকায় চুপচাপ দাঁড়িয়ে একটি আট তলা ভবন। চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সিজেএম) আদালত হিসেবে ব্যবহার হতে ২০১৯ সাল থেকে প্রস্তুত এটি। তবে সেখানে বসতে নারাজ আইনজীবীরা। সাত বছর ধরে পড়ে থেকে ২৮ কোটি টাকার ভবন হয়ে উঠেছে ভুতুড়ে।
প্রতিটি কক্ষ, তাতে থাকা আসবাবপত্র ও নানা সরঞ্জামে পড়েছে ধুলার আস্তরণ। দেয়ালগুলো মলিন। চারপাশে সুনশান নীরবতা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পুরাতন কোর্ট এলাকায় ২০১৬ সালে এই সিজেএম ভবনের নির্মাণকাজ শুরু করে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। ২৮ কোটি টাকা ব্যায়ে তিন বছরে শেষ হয় এর কাজ। নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা আদালত থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে অবস্থান ভবনটির। দূরত্বের কারণে সেখানে যেতে চান না জেলার আইনজীবীরা।
এখনকার সিজেএম কোর্ট ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের পাশে চানমারীতে জেলা ও দায়রা জজের পাশেই। আইনজীবীদের ভাষ্য, দুইটি আদালত ভবন একসঙ্গে থাকায় তাদের ও বিচারপ্রার্থীদের জন্য তা সুবিধাজনক।
নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এইচ এম আনোয়ার প্রধান আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘এই ভবন নির্মাণের শুরু থেকেই সেখানে যেতে আইনজীবীদের আপত্তি ছিল। দুই কিলোমিটার দূরের আদালত জেলার ১২০০ আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের জন্য ভোগান্তির কারণ হবে।’
কী ধরণের ভোগান্তি, জানতে চাইলে তার কথা, ‘প্রায়ই দেখা যায়, একই সময়ে জজ কোর্ট এবং ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের কার্যক্রম চলছে। বর্তমানে দুই কোর্ট একসঙ্গে থাকায় মক্কেলদের আইনি সেবা দিতে পারছেন। নতুন ভবনে সিজেএম কোর্ট স্থানান্তরিত হলে এটি সম্ভব হবে না।’
‘২০২৪ এর ৫ আগস্টের পর দুই আদালত ভবন একসঙ্গে রাখতে জেলা জজ, জেলা প্রশাসক, অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরে আমরা প্রস্তাব দিয়েছি। তাতে বর্তমান জজ কোর্টের ভেতরেই নতুন সিজেএম কোর্ট ভবন নির্মাণ কিংবা গণপূর্ত ভবনের পূর্ব-দক্ষিণ পাশে সিজেএম কোর্ট ভবন নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছি’- যোগ করেন তিনি।
ভবনটির বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি- জানালেন নারায়ণগঞ্জ গণপূর্ত কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ। তিনি বলেছেন, ‘লিগ্যাল এইড শাখা অফিস করার জন্য এই ভবনটি চেয়ে আবেদন করেছে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসায় আমরা ভবনটি হস্তান্তর করতে পারিনি। সিজেএম আদালত হিসেবে ব্যবহার না হলে অন্য কোনো মন্ত্রণালয়ের কাজে ব্যবহার করা যায় কি না, সেটিও যাচাই-বাছাই চলছে।’
‘বহুতল ভবনটি আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে করা হয়েছিল। আমাদের সিজিএম কোর্টসহ অন্যান্য বিচারবিভাগের অফিসগুলো সেখানে ট্রান্সফার করার কথা ছিল। কিন্তু তারা এখনো সেখানে যায়নি। কেন যায়নি, সেটি আমাদের মাননীয় দায়রা জজ যিনি রয়েছেন, তাদের সিদ্ধান্ত। তারা কবে যাবেন, এটি সম্পূর্ণ তাদের উপর নির্ভর করবে’- ভাষ্য নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক রায়হান কবিরের।
তবে এ নিয়ে মন্তব্য করতে চাননি সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. আবু শামীম আজাদ।





