খাল ভরাট করে মাছের ঘের, ডুবছে ২০ একর জমির পাকা ধান

ছবি: আগামীর সময়
নেত্রকোনার বারহাট্টায় খালের মুখ বন্ধ করে মাছের ঘের নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে শাহজাহান মড়ল নামে এক প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। এতে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে অন্তত ২০ একর জমির পাকা ধান তলিয়ে গেছে বলে অভিযোগ স্থানীয় কৃষকদের।
তাদের অভিযোগ, সিংধা ইউনিয়নের আশিয়ল গ্রামের পূর্বপাড়ার খালটি কাটাখালী নদীর সঙ্গে সংযুক্ত ছিল। এই খাল দিয়ে বর্ষা ও জমির অতিরিক্ত পানি নদীতে নেমে যেত। সম্প্রতি খালের মুখ বন্ধ করে সেখানে মাছের ঘের তৈরি করায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে আশপাশের নিচু বিলে পানি জমে ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।
জমিতে পানি জমে থাকায় পাকা ধান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে জানান কৃষকরা। অনেক জায়গায় হারভেস্টার মেশিন ব্যবহার করা যাচ্ছে না। শ্রমিক সংকটের কারণে হাতে ধান কাটাও কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে কয়েক হাজার মণ ধান নষ্ট হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় কৃষক ইলিয়াস মিয়া বলেছেন, ‘খালের মুখ বন্ধ থাকায় বিলে পানি আটকে গেছে। বৃষ্টির পানিতে ধান তলিয়ে যাচ্ছে। শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না, তাই কোমর পানিতে নেমে নিজেদেরই ধান কাটতে হচ্ছে। অনেক ধান ঘরেই তোলা যাবে না।’
আরেক কৃষক মাজহারুল ইসলাম উল্লেখ করেন, ধান তলিয়ে যাওয়ায় তার ছেলেকে স্কুল থেকে এনে মাঠে কাজ করাচ্ছেন। যতটুকু সম্ভব ধান ঘরে তোলার চেষ্টা করছেন বলে জানান তিনি। তিনি বলেছেন, খালের মুখ খুলে দিলে এলাকার কৃষকরা উপকৃত হতো।
কৃষক নুরনবী বলেছেন, খালটি সচল থাকলে আশপাশের একাধিক বিলের পানি সহজে নদীতে নামতে পারত এবং নৌকায় ফসল পরিবহন করা যেত।
অভিযুক্ত শাহজাহান মড়ল দাবি করেন, খালের কিছু অংশ তার ফিশারির মধ্যে পড়েছে। নিজের জায়গা হওয়ায় সেখানে খাল রাখতে চান না বলে জানান তিনি। কয়েক বছর আগে ভরাটের সময় কেউ বাধা না দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।
এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি খাল দখলমুক্ত করে দ্রুত খনন করা হলে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক হবে এবং কৃষকদের ক্ষতি কমবে।
এ বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোহেল চৌধুরী জানান, বিষয়টি স্থানীয়দের মাধ্যমে জেনেছেন। কৃষকদের স্বার্থে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা জানান, বিষয়টি তার জানা ছিল না। প্রশাসনের সহযোগিতা ছাড়া এ ধরনের সমস্যার সমাধান সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করার পরামর্শ দেন।
বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. জিনিয়া জামান জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে ঘটনাটি তদন্ত করে জানাতে বলা হবে।




