‘তথ্য ফাঁস করা পুলিশকে গাছে ঝোলাবো’ বলা কেএমপি কর্মকর্তা প্রত্যাহার

কেএমপির সদ্য প্রত্যাহার হওয়া অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খান
সাধারণ মানুষের তথ্য ফাঁস করলে পুলিশ কর্মকর্তাদের ‘পিটিয়ে মারার জন্য গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেব’। এ কথা বলে প্রত্যাহার হয়েছেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খান।
গতকাল শুক্রবার ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ মো. আলী হোসেন ফকিরের সই করা অফিস আদেশে তাকে সদরদপ্তরে রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে। তাতে অবশ্য এই সিদ্ধান্তের কারণ স্পষ্ট করা হয়নি।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কেএমপি কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান। তিনি জানালেন, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার রাশিদুল আজ রবিবারের মধ্যে স্টেশন ত্যাগ করে পুলিশ সদরদপ্তরে রিপোর্ট করবেন।
গত মঙ্গলবার নগরীর লবণচরা থানার মহিরবাড়ি খালপাড় এলাকায় স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার রাশিদুল। সেখানে তার দেওয়া একটি বক্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে ফেসবুকে।
সভায় স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, এলাকার সন্ত্রাসীদের বিষয়ে থানায় তথ্য দিলে সেটি ফাঁস হয়ে যায়। নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েন তথ্যদাতা। তাদের উদ্দেশে রাশিদুল ইসলাম বলছিলেন, ‘দারোগা বা ইন্সপেক্টরকে বলার পর কোনো ইনফরমেশন যদি ফাঁস হয়, আমি মুসলমান হিসেবে কথা দিচ্ছি, আমি ইন্সপেক্টরকে ঝুলায় দেব, আপনারা পিটায় মারবেন। আপনারা গোপন তথ্য দেবেন, আল্লাহ ছাড়া কেউ জানলে আমি কথা দিচ্ছি গাছের সঙ্গে ঝুলাইয়া পিটাব।’
ভিডিও ভাইরালের পর পুলিশ সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিবৃতিও দেয় বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন। তাতে বলা হয়, পুলিশ বাহিনীর সব সদস্য ও কর্মকর্তার বক্তব্যে পেশাদারত্ব, সংযম ও প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যবোধের প্রতিফলন থাকা উচিত। জনসম্মুখে দেওয়া যে কোনো বক্তব্য এমন হওয়া প্রয়োজন, যা বাহিনীর মর্যাদা, শৃঙ্খলা ও জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় করে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ, অনিয়ম বা দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ উঠলে তা প্রচলিত আইন, বিভাগীয় বিধি ও সাংগঠনিক প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি হওয়াই গ্রহণযোগ্য। একই সঙ্গে বাহিনীর সদস্যদের মনোবল, পেশাগত নিরাপত্তা ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।
নিজ বক্তব্য নিয়ে রাশিদুল ইসলাম খানের ব্যাখ্যা- ‘খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে স্থানীয় মানুষের সহযোগিতার বিকল্প নেই। কিন্তু জনগণের বড় অভিযোগ পুলিশের কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করতেই ওই মন্তব্য করেছিলাম। বক্তব্যের একটি অংশ কেটে ভিন্নভাবে প্রচার করা হয়েছে। আমি বোঝাতে চেয়েছিলাম, কেউ তথ্য ফাঁস করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, কেউ ছাড় পাবে না।’




