সবাই নিষ্ক্রিয়, তবুও থামেনি মাসুদের ‘বুনোফুল’

ছবি: আগামীর সময়
প্রায় এক যুগ আগে পাবনার ঈশ্বরদীর নওদাপাড়া গুচ্ছ গ্রামের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা সুনিশ্চিত করতে এবং তাদের মধ্যে সামাজিক মূল্যবোধ সৃষ্টির লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করেছিল ‘বুনোফুল’ নামের একটি ব্যতিক্রমী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
স্থানীয় সংগঠক সবুজ দেওয়ান, সমাজসেবী রেজা সরদার, মাসুদ রানা, রনি হোসেনসহ কয়েকজনের যৌথ উদ্যোগে এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহায়তায় গুচ্ছ গ্রামের একটি ঘরে নিয়মিত শুরু হয় পাঠদান কার্যক্রম। শিক্ষার পাশাপাশি এখানে চালু ছিল খেলাধুলা, চিত্রাঙ্কন ও বৃক্ষরোপণসহ নানা সামাজিক কর্মসূচি।
তবে সময়ের আবর্তে সমাজসেবী রেজা সরদারের আকস্মিক মৃত্যু এবং অন্যান্য সদস্যদের কর্মব্যস্ততার কারণে একপর্যায়ে ‘বুনোফুল’ স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রমে কিছুটা স্থবিরতা নেমে আসে। অন্য সবাই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়লেও হাল ছাড়েননি মাসুদ রানা।
নিজে কর্মজীবনে প্রবেশের পর শত ব্যস্ততার মাঝেও তিনি একা বাঁচিয়ে রেখেছেন এই বিদ্যাপীঠকে। বর্তমানে তিনি স্থানীয় একটি এনজিওর ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত আছেন। নিজের উপার্জিত অর্থ দিয়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বই-খাতা কিনে দেওয়ার পাশাপাশি প্রতি সপ্তাহের ছুটির দিনে তিনি নিজেই ক্লাস নিচ্ছেন। বর্তমানে এই পাঠশালায় গুচ্ছ গ্রামের প্রায় ৫০-৬০ জন সুবিধাবঞ্চিত শিশু নিয়মিত শিক্ষার আলো পাচ্ছে।
মাসুদ রানা জানালেন, শুরুর দিকে তারা অনেকেই একসঙ্গে কাজটা শুরু করেছিলেন। সময়ের হাত ধরে আজ অনেকেই ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। কিন্তু নওদাপাড়া গুচ্ছ গ্রামের এই শিশুদের শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত করার কথা তিনি ভাবতেও পারেন না। সপ্তাহের অন্য দিনগুলোতে নিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও, ছুটির দিনটি তিনি এই শিশুদের জন্য বরাদ্দ রেখেছেন। ওদের বই-খাতা কিনে দেওয়া এবং নিয়মিত ক্লাস নেওয়ার দায়িত্বটি তিনি পরম সুখে পালন করে যাচ্ছেন।
সবার সহযোগিতা পেলে বুনোফুলের এই কার্যক্রমকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে আছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
প্রতিষ্ঠাতা সংগঠক দেওয়ান সবুজের ভাষ্য, গুচ্ছগ্রামের শিশুরা সমাজের অন্যান্য শিশুদের থেকে অনেকটা পিছিয়ে। সুবিধাবঞ্চিত এসব শিশুদের সুশিক্ষা নিশ্চিত করা ও সামাজিক মূল্যবোধ সৃষ্টিই ছিল ব্যাতিক্রমী এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য। করোনা মহামারির সময় থেকে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। তবে সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়লেও মাসুদ রানা এখনো ছড়িয়ে যাচ্ছেন বুনোফুলের সুগন্ধ।
স্থানীয়রা বলছেন, বুনোফুলে আলোর মশাল জ্বালিয়ে রাখা মাসুদ রানার এই মানবিক ও নিঃস্বার্থ প্রচেষ্টা এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে।







