পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা হাসপাতালে দরপত্র বরাদ্দে অনিয়ম
- সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ
- সরকারের অতিরিক্ত ব্যয়ের আশঙ্কা
- দরপত্র প্রক্রিয়া তদন্তের দাবি
- হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট বক্তব্য মেলেনি

পটুয়াখালী ২৫০ শয্যার হাসপাতালে রোগীদের পথ্য ও স্টেশনারি সামগ্রী সরবরাহের দরপত্রে সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দিয়ে বেশি দরে অন্য প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দরপত্রে অংশ নেওয়া এক সরবরাহকারীর দাবি, দুটি গ্রুপে তার দেওয়া দর থেকে যথাক্রমে ৩২ লাখ ও ৬ লাখ টাকা বেশি দরে কাজ দেওয়া হয়েছে অন্য প্রতিষ্ঠানকে। এতে বছরে সরকারের প্রায় ৩৮ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলরুবা ইয়াসমিন লিজার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনি ছুটিতে থাকায় একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তার দায়িত্বে থাকা পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজের সহকারী পরিচালক ডা. কবির হাসান বললেন, ‘অর্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তত্ত্বাবধায়ক ভালো বলতে পারবেন। আমি এ বিষয়ে অবগত নই।’
অভিযোগকারী মেসার্স আলতাফ হোসেনের স্বত্বাধিকারী মো. আলতাফ হোসেন বললেন, ১১ আগস্ট অনুষ্ঠিত দরপত্রে রোগীদের পথ্য ও স্টেশনারি সরবরাহের দুটি গ্রুপেই তিনি সর্বনিম্ন দরদাতা ছিলেন। প্রয়োজনীয় পে-অর্ডারসহ দরপত্র জমা দেওয়ার পরও তাকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়নি। কেন তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে, সে কারণও জানানো হয়নি।
অভিযোগপত্রে আলতাফ হোসেন উল্লেখ করেন, পথ্য সরবরাহের জন্য তার দর ছিল ১ কোটি ২৭ লাখ টাকা। বিপরীতে কার্যাদেশ পাওয়া প্রতিষ্ঠানের দর ১ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ তার চেয়ে ৩২ লাখ টাকা বেশি দরে কাজ দেওয়া হয়েছে বলে তার দাবি।
স্টেশনারি সামগ্রী সরবরাহের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। এ গ্রুপে তার দর ছিল ১২ লাখ টাকা। কার্যাদেশ পাওয়া প্রতিষ্ঠানের দর ছিল ১৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক্ষেত্রেও ৬ লাখ টাকা বেশি দরে কাজ দেওয়া হয়েছে।
দুটি গ্রুপের দর যোগ করে আলতাফ হোসেনের দাবি, সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দিয়ে বেশি দর দেওয়া প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়ায় সরকারের বছরে প্রায় ৩৮ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হতে পারে।
দরপত্রে অংশ নিতে পথ্য সরবরাহের জন্য ৫ লাখ টাকা এবং স্টেশনারির জন্য ৫০ হাজার টাকার পে-অর্ডার জমা দেওয়ার কথা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন আলতাফ। তার দাবি, প্রায় আট থেকে ৯ বছর ধরে তিনি পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে পথ্য ও বিভিন্ন মালামাল সরবরাহ করে আসছেন। তার সরবরাহ করা পণ্য নিয়ে নিম্নমান, অনিয়ম বা দায়িত্বে অবহেলার কোনো অভিযোগ ওঠেনি বলেও দাবি করেন তিনি।
এ ছাড়া পটুয়াখালী কোস্ট গার্ড, পুলিশ লাইন, এতিমখানাসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এবং পটুয়াখালী জেলা কারাগারে দীর্ঘদিন ধরে মালামাল সরবরাহের
অভিজ্ঞতা রয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন তিনি।
সর্বনিম্ন দরদাতা হয়েও কেন তাকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়নি, তা জানতে এবং পুরো দরপত্র প্রক্রিয়া
পর্যালোচনা ও তদন্তের দাবি জানিয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন আলতাফ হোসেন। আবেদনের অনুলিপি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও পটুয়াখালী জেলা প্রশাসককে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী বললেন, সরকারি দপ্তরের ক্রয় কার্যক্রম পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০২৫ অনুযায়ী সম্পন্ন করা এবং সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে ‘ভ্যালু ফর মানি’ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এর ব্যত্যয় ঘটলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।
তবে সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দেওয়ার কারণ, বেশি দরে অন্য প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়ার প্রক্রিয়া এবং সরকারের অতিরিক্ত ব্যয়ের অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।



