সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে হামে শিশুর মৃত্যু, কান্না থামছে না মায়ের

মো. আজিজুল হক ও নাজমিন বেগম ও তাদের দুই সন্তান। ছবি: আগামীর সময়
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে শামীমা আক্তার নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার। শিশুটির বাবা-মার অভিযোগ, হাসপাতালে আইসিইউ সুবিধা না থাকা স্বত্বেও সময়মতো তাকে সিলেটে নেওয়ার পরামর্শ দেননি চিকিৎসকরা। এ কারণেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
জানা গেছে, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মনিপুরীহাটি গ্রামের বাসিন্দা মো. আজিজুল হক ও নাজমিন বেগমের তৃতীয় সন্তান শামীমা আক্তার। জন্মের পরে টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়ে শারীরিক সমস্যা দেখা দেয় তার। পরে কয়েক দফায় সিলেট চিকিৎসা করান তারা, এতে হামের দুইটি টিকা দেওয়া হয়নি তাকে। কয়েকদিন আগে পাতলা পায়খানাজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হলে শামীমাকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তার শরীরে রাশ দেখা দিলে চিকিৎসকরা তাকে হাম আক্রান্ত বলে সন্দেহ করেন।
পরিবারের অভিযোগ, কয়েকদিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে নেওয়ার পরামর্শ দেননি চিকিৎসকরা।
শিশুটির মা নাজমিন বেগম অভিযোগ করে বলেছেন, আমার বাচ্চা টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাটতে ও কথা বলতে সমস্যা দেখা দেওয়ার পর সিলেট চিকিৎসা করিয়েছি। এতে প্রায় ৩ থেকে ৪ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। এখনও যদি চিকিৎসকরা বলতো তারা পারবে না, আইসিইউ নেই তাহলে আমরা সিলেট নিয়ে যেতাম। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অবস্থা খারাপ হওয়ার পর তারা বলেছে সিলেট নিতে। এর কিছুক্ষণ পরেই বাচ্চা মারা গেছে। আমি তখনও বুঝিনি আমার বাচ্চার নিশ্বাস থেমে গেছে। তারপরে তারা খাতায় বন্ড সই নিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শিশুর বাবা মো. আজিজুল হক একজন বালু-পাথর শ্রমিক। তার ভাষ্য, আমার মেয়ে মারা যাওয়ার এক ঘণ্টা ২০ মিনিট আগে তারা সিলেট নিয়ে যেতে বলেছে। সাধারণ অক্সিজেনে শ্বাসকষ্ট থেকেই যায়। জেলার সবচেয়ে বড় হাসপাতাল হওয়ার সত্ত্বেও আইসিইউ সুবিধা নেই। আমি চাই দ্রুত আইসিইউ সুবিধা চালু হোক, আমার মেয়ের মতো পরিণতি আর কোনো শিশুর যেন না হয়।
তবে অভিযোগের বিষয় সত্য নয় বলছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাদের ভাষ্য, রোগীর অবস্থা অনুযায়ী সিলেট রেফার করা হয়। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. মাহবুবুর রহমান বলেছেন, আমরা রোগী খারাপ হয়ে গেলে সিলেট রেফার করে দেই। আইসিইউ চালু করা গেলে প্রয়োজনমতো রোগীদের সেবা দিতে পারব।
সিভিল সার্জন ডা. জসিম উদ্দিন বলেছেন, সিলেটে সুনামগঞ্জে বিভিন্ন উপজেলার এখন পর্যন্ত ১৭ জন শিশু মারা গেছে। এরমধ্যে একশিশু হামে মৃত্যু হলেও অন্যগুলো নিশ্চিত নয়।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে এখন পর্যন্ত ৪৯৫ জন সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৮৯ শিশু।




