সৈয়দপুরে ৭৫০ কেজি নকল কীটনাশক উদ্ধার

ছবি: আগামীর সময়
নীলফামারীর সৈয়দপুরে অভিযান চালিয়ে প্রায় সাড়ে ৭০০ কেজি নকল কীটনাশক উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় নকল কীটনাশক তৈরি ও মজুদের দায়ে সাজেদা বেগম (৫৫) নামে এক নারীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুন) বিকালে উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের প্রামাণিকপাড়ায় সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি বিভাগের উদ্যোগে এ অভিযান চালানো হয়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারহা ফাতেহা তাকমিলা পুলিশ ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে অভিযান চালান।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, প্রামাণিকপাড়ার বাসিন্দা ফরিদ উদ্দিনের স্ত্রী সাজেদা বেগম এবং ছেলে নুর মোহাম্মদ দীর্ঘদিন ধরে নকল কীটনাশক তৈরি করে বাজারজাত করছিলেন। অভিযানের সময় সাজেদা বেগমকে বালি, ইটের গুঁড়া ও রঙ ব্যবহার করে নকল কীটনাশক তৈরি করতে দেখা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মহির উদ্দিনের প্রশ্রয়ে তার ভাতিজা নুর মোহাম্মদ নকল কীটনাশক তৈরি ও বিক্রি করতেন। অভিযানের সময় তিনি বাড়িতে উপস্থিত থাকলেও প্রশাসন শুধু তার মাকে জরিমানা করেছে।
তাদের অভিযোগ, নকল কীটনাশক ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষকরা প্রতারিত হচ্ছেন এবং এর সঙ্গে স্থানীয় কিছু প্রতিষ্ঠিত সার ও কীটনাশক ব্যবসায়ীও জড়িত থাকতে পারেন। প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ বিষয়টি জানলেও মূল হোতাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলেও তারা অভিযোগ করেন।
উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আরেফিন সিদ্দিকীর ভাষ্য, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো অভিযানে জব্দ হওয়া নকল কীটনাশক বসুনিয়াপাড়া সেতুর নিচে খরখরিয়া নদীতে ফেলে ধ্বংস করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্যাকেটজাত ও অব্যবহৃত মোড়কগুলো আগুনে পুড়িয়ে নষ্ট করা হয়।
তিনি উল্লেখ করেন, উদ্ধার হওয়া নকল কীটনাশকে কোনো রাসায়নিক উপাদান ছিল না। এগুলো শুধু বালি, ইটের গুঁড়া ও রঙ দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। তাই নদীতে ফেলায় পরিবেশ দূষণের আশঙ্কা নেই বলে তারা মনে করেন। প্যাকেট পোড়ানোর বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেন, সেগুলো মাটিতে পুঁতে রাখলে আরও বেশি ক্ষতির সম্ভাবনা ছিল।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারহা ফাতেহা তাকমিলা জানান, নকল কীটনাশক তৈরির দায়ে এক নারীকে জরিমানা করা হয়েছে এবং জব্দকৃত খোলা ও প্যাকেটজাত নকল কীটনাশক কৃষি বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। খোলা জায়গায় পলিথিনের মোড়ক পোড়ানো বা নকল কীটনাশক নদীতে ফেলে দেওয়া সঠিক হয়নি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।




