গৃহকর্মীকে গরম কড়াইয়ের ছ্যাঁকা, পুলিশ দম্পতি কারাগারে

আদালতে এএসআই সঞ্জয় মিত্র— সংগৃহীত ছবি
খুলনায় গৃহকর্মীকে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগে দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) সঞ্জয় মিত্র ও তার স্ত্রী এএসআই পপি মিত্র। অভিযোগ, তারা তাদের বাসায় কর্মরত এক গৃহকর্মীকে গরম কড়াই দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দিয়ে নির্যাতন করেন।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনা চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের (সিএমএম) বিচারক ফারুক ইকবাল তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে নরসিংদীর নিশ্চিন্তপুর গ্রাম থেকে খুলনায় আসেন গৃহকর্মী মিলন দাসের মা মিনতি দাস। এরপর তিনি বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। মামলার পর এএসআই সঞ্জয় মিত্র ও তার স্ত্রী এএসআই পপি মিত্রকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। দুপুর ২টার দিকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এছাড়া নির্যাতনের শিকার গৃহকর্মীকে চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বুধবার দুপুরে খুলনা নগরীর সোনাডাঙ্গার একটি চারতলা বাড়ির বারান্দা থেকে ভেসে আসে কিশোরীর আর্তনাদ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তাকে বারবার কান ধরে উঠবস করানো হচ্ছিল। সামান্য দেরি হলেই লাঠির আঘাত করা হচ্ছিল। এমনকি গরম কড়াই ও খুন্তি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দেওয়ার মতো নির্মম নির্যাতনের ঘটনাও দেখা যায়।
ঘটনাটি নজরে আসে পাশের সোলার পার্কে সিটি প্রশাসকের একটি কর্মশালায় অংশ নিতে আসা এক সংবাদকর্মীর। বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি এবং তিনজন সামাজিক সংগঠনের নেত্রী দ্রুত ওই বাড়িতে প্রবেশ করে কিশোরীটিকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। তবে প্রথমে তাদের বাধা দেওয়া হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশ নিয়ে তারা বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করেন এবং নির্যাতিত গৃহকর্মীকে উদ্ধার করেন।
উদ্ধারের সময় কিশোরীর চোখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধরের চিহ্ন দেখা যায়। এছাড়া গরম কড়াই ও খুন্তির ছ্যাঁকার ক্ষতও ছিল স্পষ্ট। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, হাত থেকে তরকারি পড়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে গৃহকর্ত্রী তার ওপর এই অমানবিক নির্যাতন চালান।
তারা আরও জানান, এএসআই সঞ্জয় মিত্র ও তার স্ত্রী এএসআই পপি মিত্র প্রায়ই ওই গৃহকর্মীর ওপর শারীরিক নির্যাতন করতেন।





