শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬
আগামীর সময়
কোয়ালাদের বাঁচার শেষ ভরসা

কোয়ালাদের বাঁচার শেষ ভরসা

শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬
আগামীর সময়
  • বেটা
  • সর্বশেষ
  • ইপেপার
EN
  • বেটা
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • সারা দেশ
  • বিশ্ব
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • চট্টগ্রাম
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • বিচিত্রা
  • ইপেপার
  • EN

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলীগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

info@agamirsomoy.com

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় সারা দেশ

দাম বাড়ে, আয় বাড়ে না

চাঁদপুর প্রতিনিধিপ্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৪:২৪
দাম বাড়ে, আয় বাড়ে না

ছবি: আগামীর সময়

দিন যাচ্ছে, বাড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। তবে সেই অনুপাতে বাড়ছে না মানুষের আয়। ফলে গ্রামের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রার আয় ও ব্যয়ের মধ্যে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য। স্থানীয় বাজারদর, কৃষকের উৎপাদন খরচ ও দিনমজুরের মজুরির তথ্য বিশ্লেষণ করলে আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে এই বাস্তব চিত্র।

চাঁদপুরের গ্রামাঞ্চলের বাজারগুলোতে চাল, ডাল, তেল, সবজি থেকে শুরু করে প্রায় সব নিত্যপণ্যের দাম গত এক বছরে ২০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। মৌসুমভেদে দ্বিগুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে সবজির দাম। এতে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে একটি সাধারণ পরিবারের মাসিক খাদ্য ব্যয়।

কৃষকের ভাষ্য— সার, বীজ, সেচ ও শ্রমিক খরচ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ আগের তুলনায় অনেক বেশি। কিন্তু বাজারে ফসলের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় বাড়ছে না কৃষকের প্রকৃত আয়।

চাঁদপুর সদর উপজেলার সফরমালী এলাকার কৃষক মিন্টু খানের কণ্ঠে হতাশা। বললেন, ‘প্রতি বিঘায় খরচ বেড়েছে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ। কিন্তু বিক্রির সময় সেই অনুপাতে দাম পাই না। যার কারণে ধান চাষ করা অনেকে বন্ধ করে দিয়েছেন। এভাবে চলতে থাকলে কেউ আর চাষাবাদ করবেন না।’

চাঁদপুর সদরের শাহতলী এলাকার কৃষক আবুল খায়েরের ভাষ্য, ‘আগে আমাদের অনেক কৃষিজমি ছিল, কিন্তু এখন চাষ করে খরচ ওঠানো কষ্টকর হয়ে যায়। বাজারে সবকিছুর দাম বেড়েছে, কিন্তু কৃষকের দাম বাড়েনি। আমরা আড়তে যা বিক্রি করি, বাজারে গিয়ে দেখি দাম দ্বিগুণ। তাহলে লাভবান হচ্ছে কারা!’

চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার চরভৈরবি এলাকার কৃষক কামরুল ইসলাম বলছিলেন, ‘চরাঞ্চলে সব ধরনের ফলন ভালো হয়। তবে সুযোগ-সুবিধার অভাবে চাষাবাদ করতে ভালো লাগে না। দিনদিন সবকিছুর দাম বাড়ছে, কিন্তু শাক-সবজি বিক্রি করতে গেলে দাম পাই না। এভাবে তো সংসার চালানো যায় না।’

এদিকে গ্রাম কিংবা শহর সব যায়গায়ই দিনমজুরের মজুরি নিয়ে আছে স্থবিরতা। দিনমজুরদের মজুরি বাড়লেও তা বাজারদরের তুলনায় খুবই কম। গ্রামে একজন শ্রমিক মজুরি পান ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা, যেটা আগে ছিল ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। এ ছাড়া শহরে শ্রমিকরা মজুরি পান ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা। যদিও শহরের জীবন-যাপন আরও কঠিন। এই টাকা দিয়ে জীবনযাত্রার খরচ বহন করা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জানাচ্ছেন তারা।

চাঁদপুর সদরের বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের খেরুদিয়া গ্রামের বাসিন্দা নান্নু মিয়া একজন দিনমজুর। কাজ না থাকলে নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। পাঁচ সদস্যের পরিবার নিয়ে তার মাসিক আয় ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা। হিসাব মেলে না তারও। ‘আগে যা আয় করতাম, তাতে কোনোমতে চলত। এখন বাজার করতে গেলে টাকার হিসাব মেলে না। প্রায়ই ঋণ করতে হয়। এই আয় দিয়ে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া করাতে পারছি না।’

শহরে আয়ের সুযোগ কিছুটা বেশি হলেও গ্রামে আয়ের উৎস সীমিত। কৃষিনির্ভর অর্থনীতি, বিকল্প কর্মসংস্থানের বড়ই অভাব। ফলে শহরের তুলনায় দ্রুত অবনতি হচ্ছে গ্রামে জীবনযাত্রার মানে।

এই পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি ও বাবুরহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোশারেফ হোসেন। জানান, বিশ্বজুড়ে চলমান নানা আন্তর্জাতিক সংকটের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ছে। তবে সরকার এটিকে যথাযথভাবে সংকট হিসেবে বিবেচনা করছে না। বাস্তবে পরিস্থিতি দিনদিন আরও জটিল ও প্রকট আকার ধারণ করছে। ফলে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ক্রমাগত অবনতির দিকে যাচ্ছে। কর্মসংস্থানের সুযোগ কমছে এবং সাধারণ মানুষ বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ জীবিকা নির্বাহে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।

তার মতে, গ্রামীণ ও শহুরে জীবনের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য বুঝতে হলে শুধু নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বসে সিদ্ধান্ত নিলে চলবে না; বরং বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের মাধ্যমে জনগণের জীবনযাত্রা সম্পর্কে সরাসরি ধারণা নিতে হবে। শ্রমের মূল্যায়ন থেকে শুরু করে সুযোগ-সুবিধা বণ্টন সব ক্ষেত্রেই বৈষম্য স্পষ্ট। বিশেষ করে নিম্নবিত্ত ও শ্রমজীবী মানুষ নানা ধরনের প্রতারণা ও বঞ্চনার শিকার হন। অথচ তাদের শ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন করা হলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হতে পারত। এই বৈষম্য দূর করতে হলে সূক্ষ্মভাবে সমস্যাগুলো বিশ্লেষণ করে কার্যকর সমাধান গ্রহণ করা জরুরি।

চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি সুভাষ চন্দ্র রায় বলেছেন, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে। বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এতটাই অনিয়ন্ত্রিত যে, অল্প সময়ের ব্যবধানে দাম পরিবর্তন হচ্ছে। এর প্রভাব শুধু ব্যবসায়ীদের ওপর নয়, সমাজের সব শ্রেণির মানুষের ওপরই পড়ছে। শ্রমজীবী থেকে শুরু করে বিত্তশালী সবাই অনুভব করছেন এই চাপ।

তবে আশার কথাও শোনালেন তিনি। জানান, বর্তমান সরকার অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ শুরু করেছে। কৃষি খাতকে গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলছেন, ‘কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে’ কৃষি উৎপাদন বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই বাজারে পণ্যের সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে এবং দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল হবে। বর্তমানে দেশে অনেক কৃষিপণ্যই পর্যাপ্ত উৎপাদন না হওয়ায় আমদানির ওপর নির্ভর করতে হয়। এই নির্ভরতা কমাতে পারলে অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। তখন মানুষের আয় যাই থাকুক না কেন, ব্যয় নিয়ে অতটা উদ্বেগ থাকবে না। তাই কৃষি খাতকে আরও শক্তিশালী ও সম্প্রসারণ করা অত্যন্ত জরুরি।

এ বিষয়ে চাঁদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আবু তাহের জানান, জেলায় মোট আবাদি জমির পরিমাণ ৮৭ হাজার ৬৩ হেক্টর হলেও গত ২ থেকে ৩ বছরে প্রায় ১ হাজার ৫০০ হেক্টর জমি আবাদ থেকে হারিয়ে গেছে। এর পেছনে রয়েছে কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া, শ্রমিক সংকট, কৃষিজমিতে বসতবাড়ি নির্মাণ, মৎস্য চাষে জমির ব্যবহারসহ বিভিন্ন কারণ। তিনি জানালেন, একদিকে আবাদি জমি কমছে, অন্যদিকে জনসংখ্যা বাড়ছে—এই পরিস্থিতিতে খাদ্য উৎপাদন বজায় রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনি আরও জানান, উৎপাদন কমে গেলে ভোক্তাদের বেশি দামে খাদ্য কিনতে হয়, যা সামগ্রিকভাবে অর্থনৈতিক চাপ বাড়ায়। তাই কৃষি খাতকে টেকসই করতে হলে আরও গবেষণা, উন্নত প্রযুক্তি ও নতুন জাতের ফসল প্রবর্তন জরুরি। বিশেষ করে চরাঞ্চলের কৃষিজমি সংরক্ষণ ও সেগুলো আবাদে ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। যদি সরকার এসব জমির মালিকানা নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে কৃষকরা তা সংরক্ষণ ও চাষাবাদে আরও আগ্রহী হবেন।

এ ছাড়া কৃষকদের খণ্ড খণ্ড জমিতে উৎপাদন এবং স্থানীয়ভাবে সীমিত পরিসরে বিক্রির কারণে তারা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন। এ সমস্যা সমাধানে কার্যকর বাজার ব্যবস্থা, সংরক্ষণ সুবিধা এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে সরকারের উদ্যোগ বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব পদক্ষেপ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে কৃষক, শ্রমিক ও ব্যবসায়ী সব শ্রেণির মানুষই উপকৃত হবে এবং দেশের অর্থনীতি একটি স্থিতিশীল ভিত্তি পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।

নিত্যপণ্যকৃষিকৃষকগ্রামমজুরি
    শেয়ার করুন:
    নাম পরিবর্তন হচ্ছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের

    নাম পরিবর্তন হচ্ছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের

    ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ২২:৫০

    কাবার কিসওয়া: ভালোবাসা, ঐতিহ্য ও ঈমানের প্রতিচ্ছবি

    কাবার কিসওয়া: ভালোবাসা, ঐতিহ্য ও ঈমানের প্রতিচ্ছবি

    ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:৫৫

    শেকসপিয়ারের জন্মদিন নিয়ে রহস্য

    শেকসপিয়ারের জন্মদিন নিয়ে রহস্য

    ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১৪:৫৭

    ইউএফও রহস্যের আড়ালে কী?

    ইউএফও রহস্যের আড়ালে কী?

    ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:৩৪

    শর্তসাপেক্ষে শাস্তি উঠল শুটার কলির

    শর্তসাপেক্ষে শাস্তি উঠল শুটার কলির

    ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫০

    তামিলনাড়ুতেও চলছে ভোট, হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা

    তামিলনাড়ুতেও চলছে ভোট, হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা

    ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪১

    মুক্তিযোদ্ধার পায়ে হাত দিয়ে সালাম করছেন শেখ হাসিনা! নেপথ্যে কী

    মুক্তিযোদ্ধার পায়ে হাত দিয়ে সালাম করছেন শেখ হাসিনা! নেপথ্যে কী

    ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ২২:০৮

    যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ লিমনের মরদেহ উদ্ধার, সন্ধান মেলেনি বৃষ্টির

    যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ লিমনের মরদেহ উদ্ধার, সন্ধান মেলেনি বৃষ্টির

    ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০১:০৪

    যুক্তরাষ্ট্রবিহীন ভবিষ্যতের দ্বারপ্রান্তে ইউরোপ

    যুক্তরাষ্ট্রবিহীন ভবিষ্যতের দ্বারপ্রান্তে ইউরোপ

    ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ২০:২৪

    নিউ অ্যাঙ্গুলেম যেভাবে নিউ ইয়র্ক

    নিউ অ্যাঙ্গুলেম যেভাবে নিউ ইয়র্ক

    ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০৭

    সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দিয়ে ইরান কি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে?

    সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দিয়ে ইরান কি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে?

    ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২৭

    গণমাধ্যম দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে

    গণমাধ্যম দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে

    ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:১২

    খাদ্য সংকটে থাকা শীর্ষ ১০ দেশের একটি বাংলাদেশ

    খাদ্য সংকটে থাকা শীর্ষ ১০ দেশের একটি বাংলাদেশ

    ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ২১:১০

    ফুয়েল কার্ডের ছবির সঙ্গে চেহারার মিল না থাকায় বাইকারকে মারলেন ইউএনও

    ফুয়েল কার্ডের ছবির সঙ্গে চেহারার মিল না থাকায় বাইকারকে মারলেন ইউএনও

    ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩৫

    ‘বউ-ছাওয়া নিয়া কষ্টে আছি, খালি এক গ্লাস পানি খ্যায়া আসচু’

    ‘বউ-ছাওয়া নিয়া কষ্টে আছি, খালি এক গ্লাস পানি খ্যায়া আসচু’

    ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ২১:০১