বগুড়া
ঢলে কৃষিজমির মাটি ধস, আতঙ্কে ১০ গ্রামের মানুষ

ছবি: আগামীর সময়
কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে জমে থাকা পানির ঢলে বগুড়ার শেরপুরে কৃষিভূমিতে ধস দেখা দিয়েছে। পানির ঢলে অন্তত ২০০ মিটার মাটি ধসে করতোয়া নদীতে গিয়ে পড়ছে। এতে করে কৃষি জমি ও ফসল হারানোর আশঙ্কায় পড়েছেন স্থানীয়রা।
শনিবার (১১ জুলাই) খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার মির্জাপুর ও শাহ-বন্দেগী ইউনিয়নের জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। গত বছরেও এমন ধস দেখা দিয়েছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিশ্বরোডের ড্রেন দিয়ে আসা পানি সাধারণত কৃষ্ণপুর গ্রামের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। লঘুচাপের কারণে সারা দেশের মতো বগুড়ায় ভারী বর্ষণ হয়েছে। ফলে ড্রেন দিয়ে আসা পানিতে তীব্র স্রোত। এই ঢল কৃষ্ণপুর গ্রামের ফসলি জমিতে আছড়ে পড়ছে। ফলে সেখানকার মাটি ধসে যাচ্ছে।
এভাবে মদনপুর, কৃষ্ণপুর, যমুনাপাড়া, আন্দীকুমড়া, বাগমারা, হাতিগাড়া, কানাইকান্দর ও ফুলতলাসহ দুই ইউনিয়নের অন্তত ১০টি গ্রামের বৃষ্টির পানি একমাত্র এই পথটি দিয়েই প্রবাহিত হয়ে করতোয়া নদীতে গিয়ে পড়ে। তীব্র এই ঢলে পানি নেমে যাওয়ার স্থানটি এখন খালে পরিণত হয়েছে। ইতোমধ্যেই পানির তীব্র স্রোতে কৃষিজমির ভাঙতে শুরু করেছে এবং ভাঙনের কবলে পড়েছে বৈদ্যুতিক খুঁটি।
ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক রফিকুল ও সাইদুল ইসলাম জানালেন, প্রতি বছরের মতো এবারও ভারী বৃষ্টির ফলে পানির চাপে আমাদের কৃষিজমি ভাঙতে শুরু করেছে। গতবছর প্রায় আধা কিলোমিটারের মাটি ধসে গিয়েছিল। এবার এখন পর্যন্ত ২০০ মিটার ধসে গেছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে চাষাবাদের জমি বিলীন হয়ে যাবে।
শাহিন সেখ জানিয়েছেন, এই ড্রেনটি বহু আগে থেকেই ছিল। দুই পাশ থেকে ড্রেন এসে মুখ আমাদের গ্রামের (কৃষ্ণপুর) দিকে পড়েছে। ফোরলেন মহাসড়ক হওয়ার পর পানির চাপ আরও বেড়েছে। গত বছর ভেঙে ১০০ বিঘার মতো জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এবারও তাই হবে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আখতার হোসেন সমস্যার বিষয়টি স্বীকার করে জানালেন, এই সমস্যাটি দীর্ঘদিনের। বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। স্থায়ী সমাধানের জন্য আমরা স্থানীয় সংসদ সদস্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এবং দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইদুজ্জামান হিমু বলেছেন, দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের দুর্ভোগ কমাতে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি স্থায়ী সমাধানের বিষয়েও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা হবে।





