দক্ষিণ এশিয়ার পর্যটন পুরস্কারে সায়মানের হ্যাটট্রিক

সংগৃহীত ছবি
দক্ষিণ এশিয়ার পর্যটন অঙ্গনে আবারও সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী আতিথেয়তা প্রতিষ্ঠান সায়মান হোটেল ব্র্যান্ড। সাউথ এশিয়ান ট্রাভেল অ্যাওয়ার্ডসের (সাটা) দশম আসর ২০২৬ এ তিনটি মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এ নিয়ে টানা অষ্টম বছরের মতো এ আয়োজনে পুরস্কার জয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখল সায়মান। একই সঙ্গে তিনটি সম্মাননা অর্জনের মধ্য দিয়ে ছয় দশকের ঐতিহ্যও উদযাপন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
গতকাল রবিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে সায়মান বিচ রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ৮ অক্টোবর মালদ্বীপের রাজধানী মালে শহরে আয়োজিত সাউথ এশিয়ান ট্রাভেল অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সায়মানের পক্ষে সম্মাননাগুলো গ্রহণ করেন প্রতিষ্ঠানটির ক্লাস্টার জেনারেল ম্যানেজার পুবুদু ফার্নান্দো।
এবারের আসরে সায়মানের অর্জন তিনটি বিভাগে। বাংলাদেশের শীর্ষ রিসোর্ট ও হোটেল ব্র্যান্ড হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে সায়মান। পাশাপাশি সায়মান বিচ রিসোর্ট পেয়েছে বাংলাদেশের শীর্ষ সমুদ্রসৈকত হোটেলের পুরস্কার এবং সায়মান হেরিটেজ অর্জন করেছে বাংলাদেশের শীর্ষ ঐতিহ্যবাহী হোটেল ও রিসোর্টের সম্মাননা।
টানা আট বছর এ পুরস্কার অর্জন বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পে সায়মানের দীর্ঘদিনের অবস্থান, সেবার ধারাবাহিকতা এবং অতিথিদের স্মরণীয় অভিজ্ঞতা দেওয়ার অঙ্গীকারের প্রতিফলন বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
কক্সবাজারে অবস্থিত সায়মান বিচ রিসোর্ট আধুনিক সুযোগ-সুবিধার সমন্বয়ে সমুদ্রসৈকতকেন্দ্রিক অবকাশযাপনের অভিজ্ঞতা দিয়ে আসছে। অন্যদিকে, সায়মান হেরিটেজ ধারণ করছে ঐতিহাসিক সায়মান নামের ঐতিহ্য ও উত্তরাধিকার। দুই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিক আতিথেয়তার সমন্বয় তুলে ধরা হচ্ছে।
পুরস্কার অর্জনের প্রতিক্রিয়ায় সায়মান বিচ রিসোর্ট ও সায়মান হেরিটেজের ক্লাস্টার জেনারেল ম্যানেজার পুবুদু ফার্নান্দো বলেছেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, এই অর্জন আমাদের প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি সদস্যের সম্মিলিত সাফল্য। আমাদের অভিন্ন লক্ষ্য, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং প্রতিদিন নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে সহকর্মীদের আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার ফলেই এই স্বীকৃতি অর্জন সম্ভব হয়েছে। দলগত কাজই আমাদের সাফল্যের মূল ভিত্তি।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘আমরা সবাই মিলে এমন আন্তরিক, সৌহার্দ্যপূর্ণ ও অতিথিবৎসল আতিথেয়তার অভিজ্ঞতা তৈরি করে চলেছি, যা বাংলাদেশের আতিথেয়তা শিল্পের সর্বোত্তম বৈশিষ্ট্যগুলোকে তুলে ধরে। আমাদের নিবেদিতপ্রাণ সহকর্মী, সম্মানিত অতিথি, বিশ্বস্ত ব্যবসায়িক অংশীদার এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’
ভবিষ্যতের পরিকল্পনা তুলে ধরে পুবুদু ফার্নান্দো বলেছেন, ১৯৬৪ সালে যাত্রা শুরু করা সায়মান বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পের সুপরিচিত নাম। ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রতিষ্ঠানটি আতিথেয়তা খাতে নিজেদের ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। সাম্প্রতিক তিনটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি সেই দীর্ঘ যাত্রায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
পুরস্কারগুলো তাদের আরও বড় স্বপ্ন দেখতে, আন্তরিকতার সঙ্গে সেবা দিতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সায়মানের ঐতিহ্য সংরক্ষণে উৎসাহিত করবে। বাংলাদেশের আতিথেয়তার উষ্ণতা নিয়ে বিশ্বকে স্বাগত জানানো এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কক্সবাজার ও সায়মানের পরিচিতি ও সুনাম আরও সুদৃঢ় করতে তারা একসঙ্গে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।



