‘আল্লাহ নিয়েও যায় না, এদের অত্যাচার থেকেও বাঁচায় না’

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে ছেলে ও তাদের স্ত্রীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিতে থানায় বৃদ্ধ দম্পতি— আগামীর সময়
বয়সের ভারে নুয়ে পড়া এক বৃদ্ধ। দুই হাতে ক্রাচে ভর দিয়ে ধীরে ধীরে বের হচ্ছেন থানা থেকে। সঙ্গে স্ত্রী। তার হাতে কিছু কাগজপত্র, চোখে ক্লান্তি আর অসহায়ত্বের ছাপ। কাছে গিয়ে কারণ জানতে চাইলে কণ্ঠ ভারী হয়ে ওঠে বৃদ্ধ তসির উদ্দীনের। দীর্ঘশ্বাস ফেলে তিনি জানালেন, নিজের সন্তান ও তাদের স্ত্রীদের নির্যাতন ও আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে থানায় এসেছেন তারা।
থানার সামনে দাঁড়িয়ে তাদের চোখে শুধু একটাই আশা— এই কষ্টের জীবনে হয়তো শেষ পর্যন্ত আইনই কিছুটা স্বস্তি এনে দেবে। কাঁপা কণ্ঠে তিনি হতাশা প্রকাশ করলেন, ‘আর সহ্য হয় না বাবা… আল্লাহ নিয়েও যায় না। এদের অত্যাচার থেকেও বাঁচায়ও না। দেখি পুলিশে কি করে।’
ঘটনাটি ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলের ধর্মগড় ইউনিয়ন ধুল ঝাড়ি গ্রামের।
ফের হরমুজ বন্ধ করল ইরান
২০ জুন ২০২৬
আজ শনিবার দুপুরে বৃদ্ধ দম্পতির ছেলে মোকবুল হোসেন ও তার স্ত্রী আমেনা খাতুন এবং আরেক ছেলের (আশরাফুল) স্ত্রী আনুর বিরুদ্ধে রাণীশংকৈল থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।
অভিযোগে উল্লেখ করেন, আসামিরা প্রায়ই তাদের গালিগালাজসহ শারীরিক নির্যাতন করেন। তাদের বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদও করতে চায়। সর্বশেষ তাদের ব্যাপক মারধর করে বাড়ি থেকে বের হতে দেননি। এমনকি চিকিৎসাও নিতে দেননি। তারা কৌশলে শনিবার থানায় এসে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
বৃদ্ধ তসিরউদ্দিনের অভিযোগ, ছেলেদের বিয়ের পর থেকে তারা আলাদা। তারা (মা-বাবা) খুব কষ্ট করে আত্মীয়স্বজনসহ বিভিন্ন মানুষের কাছে সহায়তা নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। নিজের বাড়িতে থাকেন। এটাই সহ্য করতে পারেন না দুই ছেলের বউ।
তসিরউদ্দীন আরও জানালেন, ছেলের বউরা চায় তারা যেন তাদের বাড়ি ছেড়ে চলে যান। এ কারণে তারা তাদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করছে। তসিরউদ্দীনের আশা, পুলিশ তাদের সঠিক বিচার করবে।
এ বিষয়ে ছেলে মোকবুল হোসেনের বক্তব্য নিতে তার বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। অনেক সময় তার জন্য অপেক্ষা করেও খোঁজ মেলেনি। অন্যদিকে তসিরউদ্দীনের ছেলের বউ আনু ও আমেনা খাতুন বক্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
রাণীশংকৈল থানার ওসি (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম শনিবার সন্ধ্যায় জানালেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





