হাতিয়ার ইসলাম চরে অবৈধ নদী ঘেরে অভিযান, আটক ১৭

আটকরা— সংগৃহীত
নোয়াখালীর হাতিয়ার ইসলাম চর সংলগ্ন নদীতে অবৈধভাবে ঘের তৈরি করে বিপুল পরিমাণ মাছ শিকারের অভিযোগে ১৭ জনকে আটক করেছে নলচিরা নৌ-পুলিশ ও বনবিভাগের যৌথ দল।
মঙ্গলবার বিকাল ৩টার দিকে ইসলাম চর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে আটক ব্যক্তিদের নিয়ে নলচিরা নৌ-ঘাটে পৌঁছায় যৌথ অভিযানের দল। আজ বুধবার রাতে তাদের হাতিয়া থানায় সোপর্দ করা হয়।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১৭ জন প্রাপ্তবয়স্ক। তারা নোয়াখালীর সুবর্ণচরের মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের চর তরবালি এলাকা এবং কোম্পানীগঞ্জের চর এলাহী ইউনিয়নের বাসিন্দা। বাকি পাঁচজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে অভিযান পরিচালনাকারী দল।
নৌ-পুলিশ ও নলচিরা বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়, হাতিয়ার ইসলাম চর এলাকায় বহিরাগত প্রভাবশালী মৎস্যজীবীরা স্থানীয় বনের কেওড়া ও গেওয়া গাছ এবং ডাল কেটে নদীতে অবৈধ ঘের তৈরি করে বিপুল পরিমাণ মাছ শিকার করছিলেন। এসব ঘেরের কারণে বোলগেট, কার্গোসহ বিভিন্ন নৌযান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছিল এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছিল। এছাড়া ঘেরে বালি ও পলি জমে নদীর নাব্যতা কমে যাচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রকৃত জেলেরা উন্মুক্ত নদীতে মাছ ধরার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
নলচিরা রেঞ্জের বিট কর্মকর্তা বাবুল হক বলেছেন, ‘বহিরাগত এসব অভিযুক্তরা ইসলাম চরে অবৈধভাবে বনের কেওড়া ও গেওয়া গাছ কেটে নদীতে ঘের তৈরি করে মাছ শিকার করছে। তাই তাদেরকে আটকের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।’
হাতিয়া উপজেলার নলচিরা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আশীষ চন্দ্র সাহা জানান, নদীতে অবৈধ ঘের তৈরির কারণে বোলগেট, কার্গোসহ বিভিন্ন নৌযান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টির অভিযোগে তাদের আটক করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘অবৈধ চর ঘেরা জাল ও মৎস্য আইনের ৫(১) ধারায় মামলা দিয়ে তাদের হাতিয়া থানায় সোপর্দ করা হয়।’





