পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের টাকা পেলেন অফিস সহকারীরাও

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ঈদ উপহার হিসেবে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মাথাপিছু ৫ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে পরিচ্ছন্নতাকর্মী না হলেও ঈদুল ফিতরে অনুদানের সেই অর্থ পেয়েছেন খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) অফিস সহকারী মো. আনোয়ার হোসেন। শুধু তিনিই নন; গত দুটি ঈদে কেসিসির ১ হাজার ৪১৮ জনের মধ্যে আর্থিক অনুদান বিতরণ হয়েছে। বরাদ্দপত্রের কাগজে এই সহায়তা শুধু পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের মধ্যে দেওয়ার নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবে তা পেয়েছেন অফিস সহকারী, অফিস সহায়ক, কনজারভেন্সি সুপারভাইজর, বহিরাগত শ্রমিক, গাড়িচালক, ভ্যানমিস্ত্রি, মালী ও অন্যান্য পদের কর্মচারীরাও। তবে পরিচ্ছন্নতাকাজে নিয়োজিত থেকেও অনুদান না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়েছেন অনেকে।
দুটি ঈদে কেসিসিতে ১ হাজার ৪৫৬ পরিচ্ছন্নতাকর্মীর অনুকূলে অনুদান এসেছে মোট ৭২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। ঈদুল ফিতরে ৭২৮ পরিচ্ছন্নতাকর্মীর অনুকূলে বরাদ্দ আসে ৩৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা। বিতরণ করা অনুদানের মাস্টাররোল শিট অনুযায়ী, ৫২ ঝাড়ুদার, ২১ মেথর, ১৭১ নর্দমা শ্রমিক, ১২৩ পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পাশাপাশি ১৮২ বহিরাগত শ্রমিক, ৭ অফিস সহকারী, ১৪ অফিস সহায়ক, ৩৪ কনজারভেন্সি সুপারভাইজর, ১৬ চালক, একজন ভ্যানমিস্ত্রি, একজন ভ্যানমিস্ত্রির সহকারী, একজন ফগার মিস্ত্রি, একজন ফগারচালক, ৪ ডোম, ৪৩ ট্রাকশ্রমিক, ২৬ স্প্রে-ম্যান, একজন দারোয়ান ও একজন হেলপার অনুদানের এই অর্থ পেয়েছেন। একইভাবে ঈদুল আজহায় একই সংখ্যক কর্মীর অনুকূলে ৩৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বিতরণ করা অনুদানের মাস্টাররোল শিট অনুযায়ী, ৫৮ ঝাড়ুদার, ২০ মেথর, ১৮৩ নর্দমাশ্রমিক, ১৩৯ পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ১৫৭ বহিরাগত শ্রমিক, ৩৫ কনজারভেন্সি সুপারভাইজর, ৩৯ চালক, ২৪ স্প্রে-ম্যান, ৪৪ ট্রাকশ্রমিক, ৭ ক্লিনার, ৩ মালী, ৪ মেকানিক্যাল সহকারী, একজন ভ্যানমিস্ত্রি, একজন ভ্যানমিস্ত্রির সহকারী, একজন ফগার মিস্ত্রি ও ৩ ডোম অনুদান পেয়েছেন।
এ ছাড়া ১৪ অফিস সহায়ক, ৬৯ কনজারভেন্সি সুপারভাইজার, ৩৩৯ বহিরাগত শ্রমিক, ৫৫ গাড়িচালক, মালী, ভ্যানমিস্ত্রি ও সহকারী এবং মেকানিক্যাল সহকারীরাও অনুদান পেয়েছেন।
বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে কনজারভেন্সি সুপারভাইজিং ইন্সপেক্টর শেখ মহিউদ্দিন হোসেনসহ সুবিধাবঞ্চিত কয়েকজন কর্মচারী অভিযোগ করেছেন, প্রধানমন্ত্রীর অনুদান প্রকৃত পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য বরাদ্দ হলেও নির্দেশনা অনুসরণ করা হয়নি। কিন্তু পরিচ্ছন্নতা কাজে সরাসরি জড়িত থাকার পরও তারা অনেকেই এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
তবে অনিয়মের কথা স্বীকার করে সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান বলেছেন, ঈদুল ফিতরে করপোরেশনের সাধারণ শাখা থেকে কনজারভেন্সি বিভাগের জনবলের তালিকা চাওয়া হয়েছিল। তখন না বুঝেই এই বিভাগে কর্মরত ৭২৮ জন জনবলের তালিকা দেওয়া হয়। পরে সেই তালিকা অনুযায়ীই সবাই অনুদান পেয়েছেন। ঈদুল আজহায় সঠিকভাবেই বিতরণ হয়েছে বলে দাবি করেছেন এই কর্মকর্তা।







