নিয়োগে অনিয়ম প্রমাণিত, ২৮ বছর ধরে অবৈধভাবে চাকরি

সংগৃহীত ছবি
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার মিতালী বাজার মডেল একাডেমির সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. বিল্লাল হোসেনের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে নিয়োগ নিয়ে দীর্ঘ ২৮ বছর চাকরি করার অভিযোগ ওঠেছে।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার তদন্তেও তার নিয়োগ প্রক্রিয়া বিধিবহির্ভূত বলে প্রমাণিত হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৯৮ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর দৈনিক মিল্লাত পত্রিকায় এমপিওভুক্ত মিতালী বাজার মডেল একাডেমিতে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে প্রকাশ করা হয় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি। সেখানে শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে বিএসসি (গণিত) এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হওয়ার শর্ত উল্লেখ ছিল।
তবে অভিযোগ রয়েছে, মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী এবং বিএড প্রশিক্ষণবিহীন বিল্লাল হোসেন পরিকল্পিতভাবে তিনজনের প্যানেল তৈরি করে নিয়োগ কমিটিকে প্রভাবিত করে ওই পদে নিয়োগ পান।
অভিযোগে আরও বলা হয়, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ‘সরকারি বিধি মোতাবেক’ শব্দটি করা হয়নি উল্লেখ, যা নিয়মবহির্ভূত। এছাড়া তার নিয়োগপত্রে ছিল না কোনো স্মারক নম্বর। আবেদনপত্র ও যোগদানপত্রের হাতের লেখাও ভিন্ন ছিল বলে জানা গেছে।
তৎকালীন বিধিমালা অনুযায়ী সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ পেতে বিএডসহ স্নাতক ডিগ্রি এবং শিক্ষকতা বা শিক্ষা প্রশাসনে ৮ থেকে ১২ বছরের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু নিয়োগের সময় বিল্লাল হোসেনের প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণ কোনোটিই ছিল না বলে অভিযোগ ওঠেছে।
এ ছাড়া বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী চাকরি বিধিমালা ১৯৭৯ অনুযায়ী নিয়োগ পরীক্ষায় ন্যূনতম তিনজন যোগ্য প্রার্থীর অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক থাকলেও সেই শর্তও পূরণ হয়নি বলে রয়েছে অভিযোগ।
ওই নিয়োগে আবেদনকারী মিতা রানী দাস দাবি করেন, তিনি ওই পদের জন্য যোগ্য ছিলেন না। তবু স্কুল কমিটির সভাপতির অনুরোধে করেছিলেন আবেদন। পরে জানতে পারেন, বিল্লাল হোসেনের নিয়োগ বৈধ দেখাতে ব্যবহার করা হয়েছে তাকে।
আরেক আবেদনকারী জহোর লাল অধিকারী বললেন, ১৯৯৮ সালে তিনি ওই পদে কোনো আবেদনই করেননি। তার ভাষ্য, তার নামে আবেদন, পরীক্ষা ও ফলাফল সবই ছিল সাজানো। তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন, ১৯৯১ সালে সহকারী শিক্ষক পদে দেওয়া একটি আবেদনপত্র পরবর্তীতে ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে।
স্কুল সূত্রে জানা যায়, চাকরি পাওয়ার পর বিল্লাল হোসেনের বিরুদ্ধে রয়েছে অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগও। ছুটির আবেদন ছাড়াই ব্যক্তিগত কাজে স্কুলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে বিল্লাল হোসেন বলছিলেন, ‘আমার নিয়োগ কীভাবে হয়েছে, এটা সাংবাদিকদের জানার বিষয় নয়। যদি জানতে চান, অভিযোগকারীর কাছ থেকে জানুন। আমাকে এ বিষয়ে আর হয়রানি করবেন না।’
প্রধান শিক্ষক মো. রেজাউল করিম জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি বিল্লাল হোসেনের নিয়োগসংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র অফিসে পাননি। তার ভাষ্য, ‘যতটুকু শুনেছি, তার নিয়োগ বিধিবহির্ভূত হয়েছে।’ স্কুলে অনুপস্থিতির বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন, বিল্লাল হোসেন তার কোনো নির্দেশ মানেন না এবং নিজের ইচ্ছামতো আসেন স্কুলে।
রায়পুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেছেন, অভিযোগের ধরন থেকে স্পষ্ট যে নিয়োগ প্রক্রিয়াটি প্রশ্নবিদ্ধ। বিষয়টি নিয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তদন্ত করেছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট দফতরের।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গৌতম মিত্র জানান, অধিদপ্তরের নির্দেশে তদন্ত করে তিনি প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। তার দাবি, তদন্তে সহকারী প্রধান শিক্ষক বিল্লাল হোসেনের নিয়োগ সম্পূর্ণ বিধিবহির্ভূত ও অবৈধ বলে প্রমাণিত হয়েছে। এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে শিক্ষা অধিদপ্তর।




