মাকে না পেয়ে কান্নায় ক্লান্ত সাড়ে ছয়মাসের মোহাম্মদ

ছবি: আগামীর সময়
ময়মনসিংহের ভালুকায় পারিবারিক বিরোধের জেরে ছয় মাসের এক শিশু মায়ের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। গত চার দিন ধরে মায়ের সান্নিধ্য না পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ছে শিশু মোহাম্মদ। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ভরাডোবা গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে ২০২৩ সালের ২৯ মে রামপুর গ্রামের আমীর হামজার মেয়ে সুমাইয়া রহমানের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের দুই মাস পর থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবনে টানাপোড়েন শুরু হয়। একপর্যায়ে ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে সুমাইয়ার পরিবার দেলোয়ারকে তালাকের নোটিশ পাঠায়।
তবে দুই সপ্তাহ পর ভরাডোবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সালিসের মাধ্যমে বিরোধ মীমাংসা হলে সুমাইয়া আবার স্বামীর বাড়িতে ফিরে যান। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, সুমাইয়ার বাবা আমীর হামজা এই সম্পর্ক মেনে নেননি। তিনি দেলোয়ারের বিরুদ্ধে মামলা করাসহ বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন।
এর মধ্যে গত ৩ ডিসেম্বর তাদের ঘরে জন্ম নেয় ছেলে সন্তান মোহাম্মদ। দেলোয়ারের দাবি, দীর্ঘদিনের পারিবারিক চাপ ও হয়রানির কারণে কোরবানির ঈদের পরদিন তিনি স্ত্রী ও সন্তানকে শ্বশুরবাড়িতে পাঠিয়ে দেন।
পরে আমীর হামজা ভালুকা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের পর গত রোববার ছয় মাস বয়সী শিশু মোহাম্মদকে তার দাদির জিম্মায় দেন থানার এএসআই আব্দুল আজিজ। এরপর গত বুধবার থানায় উভয় পক্ষকে নিয়ে সালিস অনুষ্ঠিত হয়।
মায়ের দুধে অভ্যস্ত মোহাম্মদ এখন ঠিকমতো দুধ খেতে চায় না। ল্যাকটোজেন খাওয়ানোর চেষ্টা করা হলেও সে তা গ্রহণ করছে না। অধিকাংশ সময় সে দাদির কাছেই থাকে। কান্না করতে করতে ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে, আবার কিছুক্ষণ পর জেগে কান্না শুরু করে
দেলোয়ার হোসেনের ভাষ্য, সালিসের সময় সুমাইয়া উপস্থিত থাকলেও বাবার ভয়ে কোনো কথা বলেননি। এমনকি মায়ের সামনে কান্না করলেও শিশুটিকে কোলে নিতে দেওয়া হয়নি।
শিশুর বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে দেলোয়ার জানান, মায়ের দুধে অভ্যস্ত মোহাম্মদ এখন ঠিকমতো দুধ খেতে চায় না। ল্যাকটোজেন খাওয়ানোর চেষ্টা করা হলেও সে তা গ্রহণ করছে না। অধিকাংশ সময় সে দাদির কাছেই থাকে। কান্না করতে করতে ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে, আবার কিছুক্ষণ পর জেগে কান্না শুরু করে। সম্প্রতি তার জ্বরও এসেছে বলে জানান তিনি।
ত্রিশালের একটি হাফেজি মাদ্রাসার মুহতামিম হিসেবে কর্মরত দেলোয়ার আরও দাবি করেন, স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার জন্য তিনি চেষ্টা করছেন। তবে শ্বশুরের কারণে বর্তমানে স্ত্রীর সঙ্গে তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
অন্যদিকে আমীর হামজা মন্তব্য করেন, তিনি দেলোয়ার ও তার সন্তানকে কোনোভাবেই মেনে নেবেন না। এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলতেও অনাগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
ভালুকা মডেল থানার এএসআই আব্দুল আজিজ উল্লেখ করেন, বিষয়টি সম্পর্কে যতটুকু জেনেছেন, তাতে পারিবারিক বিরোধের কারণেই একটি সংসার ভাঙনের মুখে পড়েছে। এর সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হয়ে উঠেছে অবুঝ শিশুটি। পরিস্থিতির সমাধানে পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।




