বর্ষায় মরিচ চাষে নতুন স্বপ্ন, মিলছে ভালো দামও
- গজারিয়ায় পলি মালচ পদ্ধতি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বর্ষার আকাশে মেঘ। কখনো ঝুম বৃষ্টি, কখনো টানা গুঁড়িগুঁড়ি। চারদিকে পানি-কাদা। অথচ সেই প্রতিকূলতার মধ্যেই সবুজ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে মরিচগাছগুলো। গাছের গোড়ায় পলি মালচ। গাছগুলো দেখে স্বস্তির হাসি কৃষক মো. নুরুল আমিনের।
যে বর্ষাকে একসময় মরিচ চাষের জন্য ভয় পেতেন, এখন সেই মৌসুমেই নুরুল আমিন দেখছেন বাড়তি আয়ের সম্ভাবনা।
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার টেংগারচর ইউনিয়নের মীরেরগাঁও এলাকার প্রান্তিক কৃষক নুরুল আমিন নিজের জমিতে পলি মালচ প্রযুক্তি ব্যবহার করে বর্ষায় মরিচ চাষ করেছেন।
উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের পরামর্শ ও ঢাকা অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের সহায়তায় নেওয়া এ উদ্যোগে ভালো ফলন পাওয়ার পাশাপাশি বাজারে তুলনামূলক ভালো দামও পাচ্ছেন তিনি।
নুরুল আমিন বললেন, ‘আগে বর্ষাকালে মরিচ চাষের কথা ভাবলেই ভয় লাগত। অতিরিক্ত বৃষ্টিতে গাছ নষ্ট হয়ে যেত, রোগ-বালাই বাড়ত। কৃষি অফিসের পরামর্শে পলি মালচ ব্যবহার করে এবার বুঝতে পারছি, সঠিক প্রযুক্তি থাকলে বর্ষায়ও মরিচ চাষ করা যায়।’
পলি মালচে গাছের গোড়ার মাটি অতিরিক্ত বৃষ্টির সরাসরি আঘাত থেকে কিছুটা সুরক্ষিত থাকে। একই সঙ্গে মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখা ও আগাছা কমাতেও এটি সহায়তা করে। তবে বর্ষায় মরিচ চাষে শুধু মালচ নয়, পানি দ্রুত নিষ্কাশন, উন্নত জাতের চারা, সুষম সার প্রয়োগ এবং রোগবালাই ব্যবস্থাপনায়ও গুরুত্ব দিচ্ছেন নুরুল আমিন।
নুরুল আমিন বললেন, ‘এখন দেখছি, ঠিকভাবে চাষ করতে পারলে বর্ষায়ও ভালো ফলন পাওয়া যায়। আবার দামও ভালো পাওয়া যায়।’
গজারিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ফয়সাল আরাফাত বিন ছিদ্দিক বললেন, ‘সঠিক প্রযুক্তি অনুসরণ করা গেলে প্রতিকূল মৌসুমেও কৃষকের জন্য নতুন আয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে।’



