গেটের তালা ভেঙে কলেজ মাঠে পশুর হাট সাবেক ছাত্রদল নেতার

কুড়িগ্রামের চিলমারী সরকারি ডিগ্রি কলেজ মাঠে ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর হাট বসানোকে কেন্দ্র করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, কলেজ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই গেটের তালা ভেঙে মাঠে হাট বসানো হয়েছে। এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসন তদন্তের কথা জানিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চিলমারী উপজেলার থানাহাট বাজারের ইজারাদার ও কুড়িগ্রাম জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক জিহাদ ফেরদৌস চমক কলেজ মাঠে পশুর হাটের আয়োজন করেন। চলতি অর্থবছরে তিনি ১০ লাখ ৭০ হাজার টাকায় থানাহাট বাজার ইজারা নিয়েছেন।
রবিবার দুপুরের পর বিভিন্ন এলাকা থেকে আনা গরু ও ছাগল কলেজ মাঠে এনে বেঁধে কেনাবেচা শুরু হয়। এর আগে কয়েকদিন ধরে হাট বসানোর প্রস্তুতি ও প্রচারণা চালানো হয়। কলেজের প্রধান ফটকেও হাট উপলক্ষে অস্থায়ী গেট নির্মাণ করা হয়।
জিহাদ ফেরদৌস চমকের দাবি, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ৫০ হাজার টাকা জমা দিয়ে তিনি কলেজ মাঠে হাট বসানোর অনুমোদন নিয়েছেন। তার ভাষ্য, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, থানার ওসি এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের জানিয়েই তিনি হাটের আয়োজন করেছেন।
তবে চিলমারী সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মজিবল হায়দার চৌধুরী জানিয়েছেন, কলেজ কর্তৃপক্ষ মাঠে হাট বসানোর কোনো অনুমতি দেয়নি। হাট বন্ধে উপজেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, রাতে আয়োজকরা গেটের তালা ভেঙে মাঠে খুঁটি স্থাপন করেছেন। প্রশাসনকে জানানো ছাড়া তার আর কিছু করার ছিল না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান জানিয়েছেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি আগে অবগত ছিলেন না। তার কাছে লিখিত অভিযোগও পৌঁছায়নি। তবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বিষয়টি।
‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে হাট বসানো আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। বিষয়টি তদন্তে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে’—হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ।






