বৃষ্টি নেই তবু শ্রীপুরে সড়কে হাঁটুপানি

সংগৃহীত ছবি
মাসখানেক ধরে ভারী বৃষ্টিপাত হয়নি। তবু সড়কে জমে আছে হাঁটুপানি। গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার মাওনা চৌরাস্তা থেকে বারতোপা সড়কের বর্ণমালা মোড় পর্যন্ত প্রায় ৬০০ ফুট অংশের চিত্র এটি। বছরের বেশিরভাগ সময়ই এ সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হয় নোংরা পানি পেরিয়ে। বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানিয়েও সমাধান পাননি স্থানীয় বাসিন্দারা।
তাদের ভাষ্য, শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত শ্রীপুরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা মাওনা চৌরাস্তার কাছাকাছি হওয়ায় বর্ণমালা মোড় এলাকায় গড়ে উঠেছে আবাসিক ভবন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। এসব স্থাপনার দৈনন্দিন ব্যবহৃত পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় তা সড়কে জমছে। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, রোগী ও পথচারীদের।
জলাবদ্ধতার কারণে শুধু যাতায়াতেই সমস্যা হচ্ছে না, ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও এর প্রভাব পড়ছে। বর্ণমালা মোড়ের তারেক হাসানের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এ এলাকায় জলাবদ্ধতা থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। বাসাবাড়ি থেকে আসা ব্যবহৃত পানির সঙ্গে বর্জ্য মিশে সড়কে জমছে। মসজিদে যাতায়াতের সময় সেই নোংরা পানি পোশাক ও জুতায় লাগছে। কখনো কখনো এ অবস্থায়ই নামাজ আদায় করতে হচ্ছে।
একই পরিস্থিতিতে ভোগান্তিতে পড়ছে শিশুরাও। বর্ণমালা কিন্ডারগার্টেনের পরিচালক মো. জাহিদুল হক সুমনের ভাষ্য, তাদের বিদ্যালয়ে প্লে থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করা হয়। সড়কে নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি জমে থাকায় অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসতে চায় না। শিশুদের পোশাক ও জুতা ভিজে যায়। অভিভাবকদের অনেক সময় কোলে করে তাদের বিদ্যালয়ে পৌঁছে দিতে হয়। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
জলাবদ্ধতার কারণে দুর্ভোগের বিষয়টি স্বীকার করেছেন শ্রীপুর পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ ভূঞা। তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন, সড়কটি পরিদর্শন করে পানি নিষ্কাশন ও জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনদুর্ভোগ কমানোর উদ্যোগও নেওয়া হবে।



