বিজিবির বিরুদ্ধে কৃষককে অস্ত্র মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ

সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন রফির মা লাইলী বেগম
ঝিনাইদহের মহেশপুরে বাঘাডাঙ্গা গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম রফি। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) পরিকল্পিতভাবে অস্ত্র মামলায় তাকে ফাঁসিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার পরিবার। মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রফির মা লাইলী বেগম এ অভিযোগ তুলে ধরেন।
তার দাবি, ৩ জুন বাঘাডাঙ্গা গ্রামের ব্যানাকুড় মাঠ এলাকা থেকে রফিকুল ইসলাম রফিকে একটি বিদেশি অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার দেখিয়ে মামলা করে মহেশপুর ৫৮ বিজিবি, তবে এটি সম্পূর্ণ সাজানো ঘটনা।
লিখিত বক্তব্যে লাইলী বেগম বললেন, রফিকুল ইসলাম কোনো অস্ত্র ব্যবসায়ী বা সন্ত্রাসী নন, তিনি একটি আলোচিত জোড়া হত্যা মামলার বাদী হওয়ায় প্রতিপক্ষের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৭ জানুয়ারি সীমান্ত এলাকায় রফির ভাই শামীম ও চাচা মন্টু হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলার বাদী তিনি। ওই মামলার আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে মামলা তুলে নিতে চাপ ও হুমকি দিয়ে আসছিল বলেও অভিযোগ করা হয়।
লাইলী বেগম আরও জানান, ঘটনার দিন সকালে রফি নিজের জমিতে গবাদিপশুর জন্য নেপিয়ার ঘাস কাটতে যান। বাড়ি ফেরার পথে বিজিবির একটি টহল দল তার মোটরসাইকেলের গতি রোধ করে। তার দাবি, তল্লাশির সময় কোনো অবৈধ বস্তু পাওয়া যায়নি, পরে তাকে ঘাসক্ষেতের ভেতরে নিয়ে গিয়ে ভারতীয় একটি পলিথিনে মোড়ানো অস্ত্র উদ্ধার দেখিয়ে মামলায় জড়ানো হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, জোড়া হত্যা মামলাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে এর আগেও রফির ওপর হামলার চেষ্টা হয়েছে। গত বছরের ১১ মে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনাও ঘটে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়। এ সময় রফির বোন জেসমনি আরা, মেয়ে লাকি বেগম, স্বজন আব্দুল আলীম, সোহরাব হোসেন, ইছাহাক সরদার, মহসিন আলী ও চঞ্চল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে, মহেশপুর ৫৮ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল আলম এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাটি সত্য। রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেই বিদেশি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে ফাঁসানোর অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।’
এদিকে, একই ঘটনায় অস্ত্র উদ্ধারের স্থান নিয়ে বিজিবির দেওয়া তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, তল্লাশির সময় রফিকুল ইসলামের দেহ থেকে অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। তবে বিজিবির পরবর্তী সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অস্ত্রটি তার নেপিয়ার ঘাসক্ষেত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারস্থল নিয়ে এই ভিন্ন তথ্যকে কেন্দ্র করে এলাকায় প্রশ্ন ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রফির বোন জেসমনি আরা, মেয়ে লাকি বেগম, স্বজন আব্দুল আলীম, সোহরাব হোসেন, ইছাহাক সরদার, মহসিন আলী ও চঞ্চল হোসেন।




