পার্বতীপুরে কমিউনিটি ক্লিনিকের দুরবস্থা

ক্লিনিকে তালা ঝুলছে। চিকিৎসা নিতে এসে ফিরে যাচ্ছেন গ্রামের মানুষ। কোথাও ভবনের ছাদ ও দেয়াল জীর্ণ, কোথাও স্যানিটেশন ব্যবস্থার দুরবস্থা। এর সঙ্গে রয়েছে ওষুধের সংকট। দিনাজপুরের পার্বতীপুরে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার জন্য গড়ে তোলা কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোয় এমন নানা সমস্যায় ভুগছেন প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ।
উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পার্বতীপুরের ১০টি ইউনিয়নে ৪০টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। প্রতিটিতে একজন করে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া স্বাস্থ্য সহকারী সপ্তাহে তিন দিন এবং পরিবার পরিকল্পনা সহকারী দুই দিন সেবা দেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রতিটি ক্লিনিকে চার মাসে দুই কার্টন করে ওষুধ বরাদ্দ দেওয়া হয়। ৪০টি ক্লিনিকে চার মাসে বরাদ্দের পরিমাণ ৮০ কার্টন। অথচ প্রতিটি ক্লিনিকে চার কার্টন করে ওষুধ প্রয়োজন হলে মোট চাহিদা দাঁড়ায় ১৬০ কার্টন। অর্থাৎ, প্রতি চার মাসে ঘাটতি ৮০ কার্টন। বছরে তিন দফায় বরাদ্দ আসে ২৪০ কার্টন, যেখানে মোট চাহিদা ৪৮০ কার্টন। ফলে বছরে ঘাটতি থাকছে ২৪০ কার্টন— চাহিদার অর্ধেক ওষুধ পাচ্ছে না।
সরেজমিনে রামপুর ইউনিয়নের বাসুপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকটি তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। আশপাশে সিএইচসিপিকেও দেখা যায়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাসের অধিকাংশ দিন ক্লিনিকটি বন্ধ থাকে। এর একটি বড় অংশ বেদখল হয়ে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা বেলাল হোসেনের দাবি, তিনি কখনোই এ ক্লিনিক থেকে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা পাননি। আমাশয়, ডায়রিয়া, সর্দি, কাশি ও জ্বরের ওষুধও মেলে না।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এ কে এম শরিফুল রেজওয়ান বলেছেন, উত্তর সালন্দর (চাকলা) কমিউনিটি ক্লিনিকে জনবল সংকট রয়েছে। ওষুধের বরাদ্দ বাড়াতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ফুলেরঘাট ক্লিনিকের জায়গা দখলের অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



