দিরাইয়ে বিএনপি-যুবলীগ সংঘর্ষ, আহত যুবকের মৃত্যু

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত রতন মিয়া (২৭) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। আজ বুধবার সকালে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যু হয় তার।
দিরাই থানার ওসি এনামুল হক চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রতন মিয়ার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত।
এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আলীনগর গ্রামে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি সদস্য শাহদ্বীপের পক্ষ এবং ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মুহিত ও রফিক মিয়ার পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৪০ জন আহত হন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জমিজমা এবং এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে একাধিক মামলাও রয়েছে। সপ্তাহখানেক আগে সংঘটিত একটি মারামারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
মঙ্গলবার বিকেলে ভাটিপাড়া বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে শাহদ্বীপকে প্রতিপক্ষের লোকজন মারধর করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে আল আমিন (২৬), রতন মিয়া (২৭) ও সোনাই মিয়া (৭৫) গুরুতর আহত হন।
আহতদের প্রথমে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সকালে রতন মিয়ার মৃত্যু হয়। স্থানীয়ভাবে তিনি বিএনপি নেতা শাহদ্বীপের পক্ষের সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
সংঘর্ষ চলাকালে কয়েকটি বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। আহতদের চিৎকার ও আর্তনাদে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।




