বাসডুবির ঘটনায় চালক-সুপারভাইজার-হেলপার গ্রেপ্তার

মো. ঝন্টু আলী, মো. আজমল হোসেন ও শাকিব হোসেন।
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় বাসডুবির ঘটনায় চালক, সুপারভাইজার ও হেলপারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলেন— কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আলামপুর এলাকার মো. ঝন্টু আলী (৪৮), কুষ্টিয়ার সুগ্রীবপুর এলাকার মো. আজমল হোসেন (৩৮) এবং আলামপুর এলাকার শাকিব হোসেন।
এর আগে শুক্রবার রাতে গোয়ালন্দঘাট থানায় মামলা দায়ের করেন দৌলতদিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির এসআই মো. আবুজার গিফারী।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সকালে দৌলতদিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ৭ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে ছিলেন। সকাল ৯টা ২৫ মিনিটের দিকে মেহেরপুরের গাংনি থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী এসবি সুপার ডিলাক্স পরিবহনের বাসটি ফেরিঘাটে পৌঁছায়।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ফেরিতে ওঠার আগে যাত্রীদের বাস থেকে নামিয়ে দেওয়ার জন্য চালককে নির্দেশ দেন নৌপুলিশ ও বিআইডব্লিউটিসির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। নির্দেশনা অনুসারে বাসের যাত্রীরা নেমে পায়ে হেঁটে ফেরির দিকে যেতে থাকেন। এর কিছুক্ষণ পর চালক ঝন্টু আলী বেপরোয়া গতিতে চালাতে শুরু করেন বাসটি।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্ধারিত ফেরি ‘বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর’-এ না তুলে বাসটি দ্রুতগতিতে পন্টুন অতিক্রম করে সেখানে অবস্থানরত ‘করবী অক্সফ্যাম’ ফেরির ওপর উঠে যায়। পরে ফেরিটির শেষ প্রান্তের র্যাম্পে সজোরে ধাক্কা দিলে র্যাম্পের শিকল ও সিটকিনি ছিঁড়ে যায় এবং পদ্মা নদীতে পড়ে যায় বাসটি।
নৌপুলিশের ভাষ্য, বাসটি নদীতে পড়ে যাওয়ার আগে সুপারভাইজার ও হেলপার কৌশলে লাফ দিয়ে ফেরিতে নেমে যান। আর চালক সাঁতরে পন্টুনের কাছে এলে নৌপুলিশ ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।
এজাহারে আরও বলা হয়, দুর্ঘটনায় করবী অক্সফ্যাম ফেরির র্যাম্প, কেবল ও শিকল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি যাত্রীদের ব্যাগ ও মালামালের একটি অংশ হারিয়ে যায়। সব মিলিয়ে আনুমানিক ৩ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
গোয়ালন্দঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, নৌপুলিশের দায়ের করা এজাহারের ভিত্তিতে মামলা রুজু হয়েছে। এ ঘটনায় রাতেই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।




