টানা বৃষ্টিতে গাংনীর সড়কে ভাঙন, আতঙ্কে এলাকাবাসী

টানা বৃষ্টিতে কাজীপুর ইউনিয়নের ভবানীপুর থেকে বেতবাড়ীয়া সড়কের একটি অংশে দেখা দিয়েছে ভাঙন। ছবি: আগামীর সময়
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে কাজীপুর ইউনিয়নের ভবানীপুর থেকে বেতবাড়ীয়া সড়কের একটি অংশে দেখা দিয়েছে ভাঙন। এতে সড়কটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় স্থানীয় বাসিন্দা ও যানবাহন চালকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক।
স্থানীয়দের ভাষ্য, টানা বৃষ্টিতে ভবানীপুর থেকে বেতবাড়ীয়া সড়কের একটি অংশ ভেঙে যাওয়ায় যান চলাচলের প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ভারী যানবাহন তো দূরের কথা, মোটরসাইকেল নিয়েও চলাচল করতে হচ্ছে ঝুঁকি নিয়ে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পুরো সড়ক আরও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা ফিরোজ আহমেদ বলছিলেন, ‘টানা বৃষ্টিতে রাস্তা একেবারে ভেঙে গেছে। মানুষ যানবাহন নিয়ে চলাচল করতে পারছে না। যে কোনো সময় রাস্তাটি একেবারে ভেঙে দুই ভাগ হয়ে যেতে পারে। যতটুকু মানুষ চলাচল করছে, চরম আতঙ্কের নিয়েই। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি, অতি দ্রুত রাস্তাটি মেরামত করে চলাচলের উপযোগী করে দেওয়া হোক।’
অটোরিকশাচালক আনছার আলী জানাচ্ছিলেন, ‘রাস্তা ভাঙা থাকলে চরম ভয় ও আতঙ্ক নিয়েই চলাচল করতে হয়। রাতে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনার ভয় হয়। দিনের বেলায় দেখে চলতে পারি, কিন্তু রাতে আলোর মধ্যেও অনেক সময় স্পষ্ট দেখা যায় না। তখন দুর্ঘটনায় পড়তে হয়। ভবানীপুরের মধ্যে যে রাস্তাটি ভেঙে গেছে, তা চলাচলের একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত মেরামত না করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া দরকার।’
ট্রাকচালক সাব্বির হোসেনের অভিযোগ, ‘ভাঙা রাস্তায় চলাচল করতে গিয়ে অনেক সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। টানা বৃষ্টিতে রাস্তাটির অনেকটা ভেঙে গেছে। এবার আবার বৃষ্টি হলে পুরো অংশ আলাদা হয়ে যাবে। এখন মানুষ কোনোরকমে যাতায়াত করছে, কিন্তু রাত হলে ভয় আরও বেড়ে যাবে। বর্তমানে যে অবস্থা দেখলাম, মেরামত না হওয়া পর্যন্ত এই রাস্তা দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল করতে পারবে না।’
গাংনী উপজেলা প্রকৌশলী রোকনুজ্জামান আশ্বস্ত করছিলেন, ‘ভবানীপুর থেকে বেতবাড়ীয়া সড়কের একটি স্থানে ভাঙনের তথ্য পেয়েছি। জনগণের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে আমরা দ্রুত মেরামতের কাজ শুরু করব।’
গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেনের ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে কথা বলে সড়কটি দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে।




