ওবায়দুল কাদেরের বাড়ি এখন নীরব ধ্বংসস্তূপ

ছবি: আগামীর সময়
একসময় যে বাড়িটি মুখর থাকত হাজারও নেতাকর্মীর কোলাহলে, সেই বাড়িটি আজ নীরব। উঠানে নেই কোনো ভিড়, বারান্দায় নেই রাজনৈতিক শোরগোল, ফটকের সামনে আর থামে না গাড়ির বহর। পোড়া দেয়াল, বিধ্বস্ত ফাঁকা ঘর, আর নিস্তব্ধতায় দাঁড়িয়ে আছে বাড়িটি।
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বড় রাজাপুর গ্রামের ফজলুল হক মিয়া বাড়ি। এ বাড়িতেই জন্ম কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের। তার সঙ্গে এই বাড়িতেই বড় হয়েছেন আরও ১০ ভাই-বোন। পুরো এলাকায় বাড়িটি পরিচিত ‘ওবায়দুল কাদেরের বাড়ি’ নামে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, একসময় বাড়িটির সামনে দিন-রাত সরকারি আমলা, ঠিকাদার, নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল। ওবায়দুল কাদের আসলে সবাই তার বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করতে হুমড়ি খেয়ে পড়ত। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসত নেতাকে দেখতে। নির্বাচনের সময় বাড়িটি হয়ে উঠত রাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দু। স্থানীয়দের কাছে এটি ছিল ক্ষমতা, প্রভাব আর রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রতীক।
৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দুই দফায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে বাড়িটিতে। এরপর থেকে বাড়িটি জনশূন্য।
ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই ও বসুরহাট পৌরসভার আলোচিত সাবেক মেয়র আব্দুল কাদের মির্জা থাকতেন এই বাড়িতেই। পরিবারের আরেক সদস্য শাহাদাত মিয়াও থাকতেন এখানে। তাদের ঘিরেই পরিচালিত হত স্থানীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড।
এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলছিলেন, ‘কাদেরের বাবা মোশারেফ হোসেন ১১ ছেলে-মেয়েকে নিয়ে আমৃত্যু সংগ্রাম করে গেছেন। তার পরিবারটি ছিল খুবই সাধারণ। একসময় সেখানে ছিল দুটি চারচালা টিনের ঘর। পরে রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থান বদলের সঙ্গে বাড়িতেও আসে পরিবর্তন। কাদের মির্জা নির্মাণ করেন একতলা ভবন। তবে ওবায়দুল কাদেরের নিজস্ব কোনো ঘর ছিল না। এলাকায় আসলে ছোট ভাইয়ের ঘরেই থাকতেন।’
ওবায়দুল কাদেরের পরিবারের সদস্য সুরাইয়া বেগম বলেছেন, ‘এক সময় আমাদের ঘরের পাশে পুলিশ পাহারায় থাকত। এখন আমরা সব সময় ভয়ে থাকি। দিনের বেলায় উৎসুক মানুষ আসে বাড়িতে। কেউ ছবি তোলে, কেউ ভিডিও করে। তবে তারা কোনো সমস্যা করে না। আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মী এখন আর আসে না এই বাড়িতে।
ওবায়দুল কাদেরের ছোট বোন রোকেয়া বেগমের ভাষায়, ‘৫ আগস্টের পর দুইবার বাবার বাড়ি দেখতে গেছি। সময়টা খুবই বেদনাদায়ক। এটা শুধু ওবায়দুল কাদের বা মির্জার বাড়ি নয়, এটা আমাদের শেকড়। এখানে বাবা-মায়ের স্মৃতি জড়িয়ে আছে। এখন সেখানে গেলে বুকটা ভেঙে যায়।’
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুর রহমান রিপন বলছেন, ‘৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সাধারণ মানুষ বসুরহাট বাজার থেকে গণমিছিল নিয়ে ওবায়দুল কাদেরের বাড়ির দিকে যায়। একপর্যায়ে বাড়িঘরে ভাঙচুর চালানো হয়। দ্বিতীয় দফায় জেলা শহর মাইজদী থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা আগের দিন ঘোষণা দিয়ে পরদিন সেখানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এসব ঘটনার পর আমরা ওই বাড়িতে যাইনি, কোনো খোঁজখবরও নিইনি।’







