টানা বর্ষণে রামুতে জলাবদ্ধতা, পাহাড়ধসের শঙ্কা

ছবি: আগামীর সময়
টানা প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের রামু উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় বাড়িঘর, সড়ক ও ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি এলাকার মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় পাহাড়ধসের আশঙ্কাও বাড়ছে। তবে সম্ভাব্য যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সরেজমিন দেখা গেছে, উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের পশ্চিম, মধ্যম ও পূর্ব মেরংলোয়া, শ্রীকুল, সীমা বিহারের পশ্চিম পাশের সড়ক, মণ্ডলপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকা হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে তলিয়ে গেছে। টানা বৃষ্টিতে অনেক বাড়ির আঙিনায় পানি ঢুকে পড়েছে এবং স্থানীয় সড়কগুলো ডুবে যাওয়ায় স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। একইভাবে রাজারকুল ইউনিয়নের সিকদারপাড়াসহ বেশ কয়েকটি নিম্নাঞ্চলেও জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এতে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তির মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে।
অন্যদিকে খুনিয়াপালং ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের টাইংগাকাটা-গোয়ালিয়াপালং এলাকার বেড়িবাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে আশপাশের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। একই সঙ্গে বেশ কয়েকটি বসতঘরেও পানি ঢুকে পড়ায় ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
খুনিয়া পালং ইউনিয়ন কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক মোবারক হোসেন বললেন, প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে খুনিয়া পালং ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ডের টাইংগাকাটা-গোয়ালিয়া পালং এলাকার কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। এতে জমিগুলো চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সংযোগে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আবদুল্লাহ জানালেন, রামুতে সামান্য বৃষ্টি হলেই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অনেক সময় এক থেকে দুই দিন পর বিদ্যুৎ ফিরে আসে। আর যদি টানা বা ভারী বৃষ্টি হয়, তাহলে জলাবদ্ধতা ও বন্যার পরিস্থিতি তৈরি হয়। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
পাহাড়ধসের আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রামু উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. বেলাল উদ্দিন বলেছেন, বৃষ্টি আর লোডশেডিং যেন আমাদের নিত্যসঙ্গী হয়ে গেছে। মেঘের গর্জনের সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎও চলে যায়। তবে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, অতিবৃষ্টিতে পাহাড়ি এলাকার মাটি অনেক নরম হয়ে গেছে। যেকোনো সময় পাহাড়ধসের মতো বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এদিকে গর্জনিয়া ও কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুতের তারের ওপর গাছ ভেঙে পড়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে হাজারো গ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছেন। রামু বিদ্যুৎ বিভাগের আবাসিক প্রকৌশলী প্রদীপ কুমার জানিয়েছেন, টানা বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কাজ করছেন। পরিস্থিতি অনুকূলে এলে বিদ্যুৎ সরবরাহ দ্রুত পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
টানা বর্ষণ অব্যাহত থাকায় পাহাড়ি ঢল, জলাবদ্ধতা এবং পাহাড়ধসের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে পাহাড়সংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলোকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিল্লুর রহমান বললেন, যেকোনো দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে। আমরা নিয়মিত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। কোথাও জরুরি পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আবহাওয়া পরিস্থিতির অবনতি হলে নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা এবং পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ অবস্থায় অপ্রয়োজনীয়ভাবে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থান না করে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।




