নিজেকে ভোট দিতে পারবেন না সিলেটের ৩ প্রার্থী

সংগৃহীত ছবি
প্রচার-প্রচারণা শেষ করে সিলেটের ছয়টি আসনের প্রার্থী এবং ভোটাররা অপেক্ষার প্রহর গুনছেন। মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই বহুল প্রতীক্ষিত এই নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হবে। তবে এবারের সিলেটের তিনজন প্রার্থী নিজেকে ভোট দিতে পারবেন না। নির্বাচনে অন্য আসনের প্রার্থী হওয়ায় তারা নিজেদের ভোট দিতে পারবেন না।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে সিলেট জেলার ৬টি আসনে মোট ভোটার ২৯ লাখ ১৬ হাজার ৫৭৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৪ লাখ ৯৮ হাজার ৯৫৩ এবং নারী ভোটার ১৪ লাখ ১৭ হাজার ৬১০ জন। এ ছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১৬ জন।
নির্বাচনী আসনের হিসাব অনুযায়ী সিলেট-১ আসনে মোট ভোটার ৬ লাখ ৮০ হাজার ৯৪৩ জন; সিলেট-২ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৯০০ জন; সিলেট-৩ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ১৫ হাজার ৯৬৬ জন; সিলেট-৪ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১২ হাজার ৯৩৩; সিলেট-৫ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ২৮ হাজার ৭৪৬ জন এবং সিলেট-৬ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৯ হাজার ৯১ জন।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সিলেট-১ আসনের ৮ প্রার্থী হলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, ইসলামী আন্দোলনের মাহমুদুল হাসান, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) প্রণবজ্যোতি পাল, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) সঞ্জয় কান্ত দাস, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, গণঅধিকার পরিষদের আকমল হোসেন এবং ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. শামীম মিয়া।
সিলেট-২ আসনের ৫ প্রার্থী হলেন বিএনপির মোছা. তাহসিনা রুশদীর লুনা, খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ মুনতাসির আলী, জাতীয় পার্টির মাহবুবুর রহমান চৌধুরী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আমীর উদ্দিন এবং গণফোরামের মো. মুজিবুল হক।
সিলেট-৩ আসনের ৬ প্রার্থী হলেন বিএনপির মোহাম্মদ আবদুল মালিক, জাতীয় পার্টির মো. আতিকুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুছলেহ উদ্দিন রাজু, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রেদওয়ানুল হক চৌধুরী, স্বতন্ত্র প্রার্থী মঈনুল বাকর এবং ব্যারিস্টার মোস্তাকিম রাজা চৌধুরী।
সিলেট-৪ আসনের ৫ প্রার্থী হলেন বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরী, জামায়াতের জয়নাল আবেদীন, জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান ডালিম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা সাঈদ আহমদ এবং গণঅধিকার পরিষদের জহিরুল ইসলাম।
সিলেট-৫ আসনের ৪ প্রার্থী হলেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, খেলাফত মজলিসের মুফতি মোহাম্মদ আবুল হাসান, স্বতন্ত্র (বিএনপির বিদ্রোহী) মামুনুর রশিদ এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মো. বিলাল উদ্দিন।
সিলেট-৬ আসনের ৫ প্রার্থী হলেন বিএনপির এমরান আহমদ চৌধুরী, জামায়াতের মো. সেলিম উদ্দিন, জাতীয় পার্টির মো. আবদুন নূর, গণঅধিকার পরিষদের জাহিদুর রহমান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হাফিজ মাওলানা ফখরুল ইসলাম।
নির্বাচনে নিজ আসনে নিজের ভোট দিতে পারবেন না সিলেটের ৩ প্রার্থী। এই তিন প্রার্থী যে আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, সে আসনে তাদের ভোট না থাকায় এবারের নির্বাচনে তারা নিজের ভোট নিজেকে দিতে পারবেন না।
ভোট না দিতে পারা প্রার্থীরা হলেন— সিলেট-১ (সিলেট সিটি করপোরেশন ও সদর উপজেলা) আসনের গণঅধিকার পরিষদের আকমল হোসেন, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন সুমন এবং সিলেট-২ আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী মাহবুবুর রহমান চৌধুরী।
এসব প্রার্থীদের নির্বাচনী হলফনামা ও ভোটার তথ্য অনুযায়ী, সিলেট-১ আসনের ট্রাক প্রতীকে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী আকমল হোসেনের ভোটকেন্দ্র তার স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা গোলাপগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণভাগ-১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
একই আসনে কাস্তে প্রতীকে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন সুমনের ভোট তার স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা সুনামগঞ্জ জেলায়। তিনি সুনামগঞ্জ পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের ভোটার। তার ভোটকেন্দ্র প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র জামতলা সুনামগঞ্জে।
সিলেট-২ আসনে লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মাহবুবুর রহমান চৌধুরীর ভোট তার বর্তমান ঠিকানা সিলেট সিটি করপোরেশনের মজুমদারি এলাকায়। তার ভোটকেন্দ্র সিলেট সিটি করপোরেশনের আম্বরখানা গালস স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার ব্যাপারে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা পিংকি সাহা বলেন, যার ভোট যেখানে তাকে সেখানেই ভোট দিতে হবে। তবে কোনো প্রার্থী যদি তার নির্বাচনী এলাকার ভোটার না হন তবে তিনি আবেদন করলে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে পারবেন।
এ ব্যাপারে সিলেট-১ আসনের বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন সুমন বলেন, আমার ভোট সুনামগঞ্জে। পোস্টাল ভোটের জন্য আবেদন করিনি। যেহেতু সিলেট-১ আসন আমার নির্বাচনী এলাকা, তাই ভোট দিতে সুনামগঞ্জ যেতে পারব না।
সিলেট-২ আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী মাহবুবুর রহমান চৌধুরী বলেন, আমার ভোট সিলেট সিটি করপোরেশনে। পোস্টাল ভোটের জন্য আবেদন করিনি। নির্বাচনের দিন সময় হলে সিটি করপোরেশনে ভোট দিতে যাব।















