নাঙ্গলকোট
৩০ কেজির বস্তায় গায়েব ১০ কেজি

ছবি: আগামীর সময়
কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে পাঠানো দুস্থ ও অসহায়দের ভিজিএফের চালের বস্তায় ৩০ কেজির পরিবর্তে ২০ থেকে ২২ কেজি চাল পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুল হকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ করেছেন জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।
চাল কম থাকার প্রতিবাদে বাঙ্গড্ডা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের ক্ষোভ প্রকাশের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা ভাইরাল হয়।
জানা গেছে, ঈদুল আজহা উপলক্ষে উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য সরকার ২৬৫ টন চাল বরাদ্দ দেয়। মোট ৮ হাজার ৮৩৩ বস্তা চাল বিতরণের জন্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস ইউনিয়নভিত্তিক তালিকা প্রস্তুত করে। পরে চেয়ারম্যান ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা ডিও রিসিট নিয়ে খাদ্য গুদাম থেকে চাল বুঝে নেন।
অভিযোগ রয়েছে, খাদ্য গুদাম থেকে অনেক বস্তা ছেঁড়া ও হুকিং অবস্থায় গাড়িতে তুলে ইউনিয়ন পরিষদে পাঠানো হয়। বিতরণের সময় অধিকাংশ বস্তায় নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম চাল পাওয়া গেলে বিপাকে পড়েন চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা। অনেক ইউনিয়ন পরিষদ পরে নিজস্ব অর্থে চাল কিনে ঘাটতি পূরণ করে দুস্থদের মাঝে বিতরণ করেছে।
বাঙ্গড্ডা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুর রহিম জানান, পাঁচ শতাধিক বস্তার মধ্যে অন্তত ১৪টি বস্তায় ২০ থেকে ২২ কেজি চাল পাওয়া গেছে। প্রায় সব বস্তাতেই হুকিং ও ছেঁড়ার চিহ্ন।
পেরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তার ভাষ্য, ৫৭০ বস্তা চালের অধিকাংশেই হুকিংয়ের চিহ্ন ছিল। চাল কম থাকায় বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনায় হিমশিম খেতে হয়েছে।
বাঙ্গড্ডা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোতাহের হোসেন দাবি করেন, চাল কম আসায় কার্ডধারীদের কিছুটা কম দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়েছে। এরপরও অনেকের সমালোচনা ও গালমন্দ শুনতে হয়েছে। ভবিষ্যতে পূর্ণ ওজনের চালের বস্তা পাঠানোর দাবি তার।
অভিযোগের বিষয়ে নাঙ্গলকোট উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুল হক মন্তব্য করেন, আমার এখানে ব্যাংকের মতো। বের হয়ে গেলে কোনো অভিযোগ গ্রহণ হবে না।
তবে চাল কম পাঠানোর অভিযোগের বিষয়ে তিনি সরাসরি কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু রায়হান জানিয়েছেন, চালের বস্তায় কম থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।






