নেত্রকোনায় এক দিনে জোড়া খুন, গ্রেপ্তার ১

ছবি: আগামীর সময়
নেত্রকোনা পৌর শহরের কাটলী এলাকায় নিজ বাসায় মনোয়ারা বেগম (৫৫) নামে এক নারীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিবেশী এক যুবক। এ সময় ওই নারীর স্বামী ও ছেলেকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে। ঘটনার পর নিহতের মেয়ের চিৎকারে ওই বাসা থেকেই স্থানীয় জনতা হামলাকারীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।
সোমবার রাত ৯টার দিকে পৌর শহরের কাটলী এলাকায় নিহতের বাসার দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত মনোয়ারা বেগম কাটলী এলাকার আবু চানের স্ত্রী। অভিযুক্ত হত্যাকারী আব্দুর রশিদ একই এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় একজন রিকশাচালক।
অপরদিকে, নেত্রকোনা সদরের চল্লিশা এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে কথাকাটাকাটিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে ফয়সাল মিয়া নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। সোমবার দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে বামনিকোনা সংসদ বাজার মসজিদের সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ফয়সাল উপজেলার বামনিকোনা গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে। এই সংঘর্ষে রবিন, সৌরভ ও সাদেকুল ইসলাম নামের আরও তিনজন আহত হয়েছেন।
কাটলী এলাকার হত্যাকাণ্ডের বিবরণ দিয়ে নিহতের মেয়ে লিজা মণি বলেছেন, ‘রাত ৯টার দিকে বাসায় ঢুকে দেখি বাবা ও ভাইকে রশিদ মিয়া কুপিয়ে আহত করেছে। এসময় আমি চিৎকার দিলে আশপাশের মানুষ এসে বাবা ও ভাইকে উদ্ধার করেন। পরে বাসার খাটের নিচ থেকে মায়ের লাশ উদ্ধার করা হয়। হামলাকারী রশিদ পূর্বপরিচিত। প্রায়ই টাকা হাওলাদ নিত রশিদ। তার চরিত্রেরও খারাপ পেয়েছি।’
এই ঘটনার বিষয়ে নেত্রকোনা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সজল কুমার সরকার জানান, ঘটনার সময় এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। হামলাকারী প্রথমে মনোয়ারা বেগমকে কুপিয়ে হত্যা করে এবং এ সময় তার ছেলে মুন্না মিয়া এগিয়ে গেলে তাকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। একপর্যায়ে তাদের বাঁচাতে মনোয়ারার স্বামী আবু চান এগিয়ে গেলে তাকেও কুপিয়ে জখম করা হয়।
স্থানীয়রা চিৎকার শুনে ওই বাসায়ই হামলাকারী আব্দুর রশিদকে আটকে রাখে এবং আহত বাবা-ছেলেকে উদ্ধার করে নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে পাঠান। সেখানে ছেলে মুন্নার অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত রশিদকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
চল্লিশা এলাকার সংঘর্ষের ঘটনাটি উল্লেখ করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সজল কুমার সরকার আরও জানান, বামনিকোনা গ্রামের একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়ে ফয়সাল ও তার সঙ্গীদের সঙ্গে একই এলাকার কয়েকজনের কথাকাটাকাটি হয়। এর জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন বাঁশ দিয়ে তাদের মারধর করে গুরুতর আহত করে। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে নেত্রকোনা সদর হাসপাতাল ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠালে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ২টার দিকে ফয়সাল মারা যান। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ধরতে পুলিশি অভিযান চালানোর পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি পিবিআই তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে।




