ভেঙে যাচ্ছে স্বেচ্ছাশ্রমের বাঁধ

ছবি: আগামীর সময়
‘মোর জন্ম বাগডোহরা এলাকাত। নদীত বাড়ি ভাঙছে ৯ বার। এ্যালা (এখন) চর বাগডোহরাত থাকোং (থাকি)। তয় বাঁধ ভাঙি গেইলো, মোর এ্যাটেও (এখানেও) থাকা হবার নয়।’ কথাগুলো বলতে বলতে দূরে তিস্তার দিকে তাকিয়ে থাকেন আমজাদ আলী। তার কণ্ঠে ক্ষোভ নেই, আছে দীর্ঘদিনের ক্লান্তি। ৯ বার নদীভাঙনের শিকার হওয়ার পরও তিনি আবার ঘর তুলেছেন। কিন্তু এবার তার ভয় শুধু নদী নয়— নিজেদের হাতে গড়ে তোলা সেই বাঁধ, যা ভেঙে পড়তে শুরু করেছে।
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বড়াইবাড়ি খেয়াঘাট থেকে নদীর ওপারে তাকালেই দেখা যায় মাটির দীর্ঘ বাঁধ। তবে সরকারি কোনো প্রকল্প নয়, ঠিকাদারের নির্মাণও নয়। দিনমজুর, কৃষক, জেলে আর চরবাসীর শ্রমে গড়ে ওঠা এ বাঁধ তিন বছর ধরে পাঁচটি গ্রামের মানুষের বেঁচে থাকার শেষ ভরসা। কিন্তু উজানের ঢল আর তিস্তার পানি বাড়া-কমার সঙ্গে সেই বাঁধের বিভিন্ন অংশে এখন দেখা দিয়েছে ভাঙন। ফলে ১২ হাজার পরিবারের মধ্যে নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে উৎকণ্ঠা।
স্থানীয়রা বলছেন, তিন বছর আগে বন্যায় বাগডোহরা চরের নিচাপাড়ার তিন শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে যায় তিস্তায়। সে সময় বারবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে গেলেও নেয়নি কার্যকর কোনো উদ্যোগ। শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা না করে নিজেরাই সিদ্ধান্ত নেন বাঁধ নির্মাণের। চাঁদা তোলা হয় গ্রামের মানুষের কাছ থেকে। কেউ টাকা দিয়েছেন, কেউ শ্রম। দিনের কাজ শেষে রাতভর মাটি কেটেছেন অনেকে। এভাবেই বৈরাতি থেকে বাগডোহরা মিনার বাজার পর্যন্ত নির্মাণ করা হয় প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি বাঁধ। পরে উজানে চরনোহালী এলাকায় গড়ে তোলা হয় আরও প্রায় দুই কিলোমিটার সহায়ক বাঁধ। গত বছরের বন্যায় দুই শতাধিক একর কৃষিজমি নদীতে চলে গেলেও এই বাঁধের কারণে রক্ষা পেয়েছিল ঘরবাড়ি।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, সহায়ক বাঁধটি টিকতে না পারলে থাকবে না মূল বাঁধও। স্থানীয় বাসিন্দা আলহাজ মোতালেব হোসেন বললেন, ‘উজানের বাঁধ ভেঙে গেলে ভাটির বাগডোহরার বাঁধও পড়বে ধসে। তখন চরনোহালী, বাগডোহরা, চিলাখাল, মটুকপুর ও বিনবিনা— এই পাঁচটি গ্রামের বড় অংশই চলে যেতে পারে নদীতে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড রংপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানালেন, স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত বাঁধে সরাসরি কাজ করার সুযোগ এ মুহূর্তে নেই তাদের। তবে স্থানীয়দের আবেদনে জিও ব্যাগ দেওয়া হয়েছে ২০০টি। প্রয়োজন হলে দেওয়া হবে আরও।




