বরিশালে স্বাস্থ্য পরিচালকের অপসারণ চেয়ে মূল ফটকে তালা

ছবি: আগামীর সময়
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. এস এম মনিরুজ্জামানের পদায়ন বাতিলের দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো আন্দোলন চলছে। আন্দোলনের কারণে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় স্বাস্থ্যসেবা অচল হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে আন্দোলনকারীরা কার্যালয়ের পরিচালকের কক্ষের দরজায় তাদের লাগানো তালা ও হাতল ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে তারা কার্যালয়ের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। এতে স্বাস্থ্য উপ পরিচালকসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কার্যালয়ের ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। এতে দাপ্তরিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে যায়।
আন্দোলনকারী বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের ছাত্র সাব্বির আহম্মেদ বললেন, ৭ ও ৮ জুলাই আমরা ডা. মনিরুজ্জামানের পদায়ন বাতিলের দাবিতে আন্দোলন করেছি। তিনি বুধবার আমাদের আন্দোলনের মুখে পরে কার্যালয় ত্যাগ করেন। তিনি বের হয়ে যাওয়ার পর কক্ষ তালাবদ্ধ করে রাখি। আজ সকালে দেখি দরজার তালা ভাঙা। তাই এবার মূল গেটেই তালা লাগিয়ে দিয়েছি।
তিনি আরো বলেছেন, জুলাই আন্দোলন বিরোধী শান্তি সমাবেশে নেতৃত্ব দেওয়া ব্যক্তিকে বরিশাল বিভাগের স্বাস্থ্য পরিচালকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। জুলাই আন্দোলনের সময় তিনি শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক পদে ছিলেন। আহতদের চিকিৎসা দিতেও নিষেধ করেছিলেন তিনি। পদায়নের আদেশ বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. সৈয়দ ইমতিয়াজ উদ্দিন বলেছেন, অতীতে ডা. মনিরুজ্জামান জুলাইবিরোধী শান্তি সমাবেশে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এমন অভিযোগের ভিত্তিতে তার পদায়ন বাতিলের দাবি উঠেছে। ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়েও একই অভিযোগের কারণে ডা. মনিরুজ্জামানকে সাতক্ষীরায় বদলি করা হয়েছিল।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপ পরিচালক ডা. লোকমান হাকিমের ভাষ্য, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিভাগের স্বাস্থ্য প্রশাসনের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। আমরা দ্রুত সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক পদে সদ্য পদায়ন পাওয়া ডা. এসএম মনিরুজ্জামান বলেছেন, বৃহস্পতিবার মব সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছিল। আমাকে আমার কার্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আমি মন্ত্রণালয়ে জানিয়েছি।




