উদ্বোধনের আগেই সংযোগ সড়কে ধস, ঝুঁকিতে তিন কোটির সেতু

ছবি: আগামীর সময়
হবিগঞ্জের মাধবপুরের সুরমা চা বাগান এলাকায় প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতুর সংযোগ সড়ক উদ্বোধনের আগেই পাহাড়ি ঢলে ভেঙে গেছে। সেতুর পিলারের পাশ থেকেও মাটি সরে যাওয়ায় যেকোনো সময় পুরো সেতু ধসে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে সেতু নির্মাণে অনিয়ম ও অপরিকল্পিত কাজের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে 'মাধবপুর আরএন্ডএইচ তেলিয়াপাড়া-শাহপুর সড়কের ২৫০ মিটার চেইনেজে ৪৫ মিটার আরসিসি পিএসসি গার্ডার ব্রিজ' নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০২০ সালের ১২ জুলাই। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয় ২ কোটি ৯৯ লাখ ৩২ হাজার ৮৫১ টাকা। কাজটি বাস্তবায়ন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স হাসান এন্টারপ্রাইজ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের কাগজপত্রে তেলিয়াপাড়া-শাহপুর সড়কে সেতু নির্মাণের কথা থাকলেও বাস্তবে ওই সড়ক থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে সুরমা চা বাগানের আমতলী-২০ নম্বর সড়কের তেলমাছড়া এলাকায় সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে।
সম্প্রতি টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সেতুর সংযোগ সড়কের একাংশ ধসে পড়ে। এরপর থেকেই এলাকাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। স্থানীয়দের দাবি, নির্মাণকাজের সময় অপরিকল্পিতভাবে টিলা কাটার কারণেই এ ভাঙনের ঘটনা ঘটেছে।
সুরমা চা বাগানের বাসিন্দা প্রদিপ মুন্ড জানান, বাগানে টিলা কেটে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়েছিল। টিলা কাটার পর থেকেই ভাঙন শুরু হয়। এখন পিলারের পাশের মাটিও সরে গেছে।
২০ নম্বর এলাকার বাসিন্দা রবি কুর্মি উল্লেখ করেন, এই সড়কে আরও দুটি পাহাড়ি ছড়া রয়েছে। সেখানে সেতু না থাকলে যানবাহন চলাচল সম্ভব নয়। একটি সেতুর পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয় না করে ফয়জাবাদ থেকে ২০ নম্বর পর্যন্ত দুই কিলোমিটার রাস্তা পাকাকরণ করলে এলাকাবাসীর বেশি উপকার হতো।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সীমান্তবর্তী ২০ নম্বর এলাকায় প্রায় আড়াই হাজার মানুষের বসবাস। যোগাযোগের জন্য রয়েছে দুটি কাঁচা রাস্তা। এর মধ্যে ফয়জাবাদ হয়ে পুরাতন ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত সড়কে নিয়মিত সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করে। অন্যদিকে আমতলী সড়কে দুটি বড় পাহাড়ি ছড়া থাকায় সেখানে যানবাহন চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম মন্তব্য করেন, ঠিকাদার এখনো চূড়ান্ত বিল উত্তোলন করেনি। বিষয়টি জেনে খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।
উপজেলা প্রকৌশলী মো. রেজাউন নবী জানান, এখনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কাজ বুঝে নেওয়া হয়নি। তাই সংযোগ সড়ক মেরামত করে কাজ বুঝিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের। তবে সেতু নির্মাণে অনিয়ম ও স্থান পরিবর্তনের অভিযোগ নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।




