মেঘনা গ্রুপের গাড়িতে চাঁদাবাজি, বহিষ্কৃত বিএনপি নেতার নামে মামলা

বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা আব্দুল জলিল
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা গ্রুপের ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানে চাঁদাবাজির অভিযোগে সাতজনের নামে মামলা হয়েছে। প্রধান আসামি বিএনপি থেকে বহিষ্কার হওয়া নেতা আব্দুল জলিল। আছে অজ্ঞাতনামা আরও ৫ থেকে ৬ জন আসামি।
গতকাল বুধবার রাতে সোনারগাঁ থানায় মামলাটি করেন মেঘনা গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান তানভীর ডাল মিল অ্যান্ড ফ্লাওয়ার মিলস লিমিটেডের প্রশাসন বিভাগের ম্যানেজার মো. মনিরউদ্দীন। এসব জানালেন সোনারগাঁ থানার ওসি মহম্মদ আব্দুল বারিক।
প্রধান আসামি জলিল ছিলেন পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক। অন্য আসামিরা হলেন- ছোট ভাই আব্দুল লতিফ (৩০), সবুর খাঁন (৩০), আলমগীর হোসেন (৫০), মোরসালিন মিয়া (২৫), মনির হোসেন (২৩) ও আবুল খায়ের।
এজাহার থেকে জানা গেছে, আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে মেঘনা গ্রুপের সিরামিক ফ্রেশের প্রতিটি ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান থেকে প্রতিদিন ১ হাজার ১০০ টাকা করে চাঁদা চাওয়া হতো। গত ১৪ সেপ্টেম্বর আষাঢ়িয়ার চর এলাকায় সিরামিক ফ্রেশের ট্রাকচালক মো. ফরিদ মিয়া চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দা, কুড়াল, চাপাতি ও লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাকে ভয় দেখানো হয়।
ফরিদ মিয়া ৫০০ টাকা চাঁদা দিয়ে চলে যান। পরদিন সকালে আবারও তার কাছে চাঁদা চাওয়া হলে আগের দিন টাকা দেওয়ার কথা জানান তিনি। এরপর গাড়ির চাবি ছিনিয়ে নিয়ে তাকে হয়রানি করা হয়। আরও ৫০০ টাকা দেওয়ার পর চাবি ফেরত পান ফরিদ। বিষয়টি কাউকে জানালে হত্যা করার হুমকি দেওয়া হয়, বলা আছে এজাহারে।
বাদীর অভিযোগ, নদীপথে মেঘনা গ্রুপের জেটিতে নোঙর করা প্রতিটি জাহাজ থেকেও জলিলের নেতৃত্বে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় করা হয়। মহাসড়কের পাশে আষাঢ়িয়ার চর এলাকায় একটি কথিত অফিসকে জলিলের ‘টর্চার সেল’ হিসেবে ব্যবহার করে চাঁদা আদায় করা হতো।
চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে চালক ও হেলপারদের সেখানে আটকে মারধর এবং গাড়ির কাগজপত্র, মোবাইল ফোন ও টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
চাঁদাবাজি, জমি দখল, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং সংগঠনের সুনাম ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে গত ২২ আগস্ট জলিলকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান ও সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেনের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে তাকে বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়। তারপরও বিভিন্ন দলীয় সভা ও সমাবেশে তাকে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে দেখা যায় বলে জানান স্থানীয়রা।
তানভীর ডাল মিল অ্যান্ড ফ্লাওয়ার মিলস লিমিটেডের প্রশাসন বিভাগের ম্যানেজার মো. মনিরউদ্দীন বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে একটি গ্রুপ আষাঢ়িয়ার চর এলাকায় কোম্পানির গাড়ি আটকে চাঁদা আদায় করে আসছে। বিভিন্ন সময়ে চালকদের জিম্মি করে তার টর্চার সেলে নিয়ে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। ভয়ে চালকরা চাঁদা দিতে বাধ্য হন। এ ছাড়াও কোম্পানির জেটিতে গিয়ে তারা জাহাজ থেকেও চাঁদা আদায় করেন। তার চাঁদাবাজিতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অতিষ্ঠ।’
সোনারগাঁ থানার ওসি মহম্মদ আব্দুল বারিক জানালেন, আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।




