ছাত্রলীগ-ছাত্রদল সভাপতির ফেসবুক পোস্টের পর, পুলিশের অভিযানে আটক ১৮

রাঙামাটি শহরে রবিবার সন্ধ্যার পর থেকে পরিচালিত পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে রাত ১০টা পর্যন্ত অন্তত ১৮ জনকে আটক করা হয়েছে। কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসীমউদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং রাতভর তা চলে।
পুলিশের দাবি, সারাদেশের মতো রাঙামাটিতেও নিষিদ্ধ সংগঠনের সম্ভাব্য নাশকতা, মাদক কারবার, কিশোর গ্যাং কার্যক্রম এবং অন্যান্য সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
জানা গেছে, রবিবার রাঙামাটি শহরের একটি দেয়ালে লেখা ‘প্রত্যাবর্তন হাসিনা’ স্লোগানসংবলিত একটি ছবি এবং ছাত্রলীগের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের বই বিতরণের কয়েকটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রনি হোসেন। পোস্টগুলো ঘিরে শহরে আলোচনা শুরু হয়।
এরপর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি অলি আহাদ ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাসে নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রতি সতর্কবার্তা দেন। তার পোস্টের পর দুই সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বার্তা ও মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে।
একপর্যায়ে রাঙামাটি সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ওমর মোর্শেদ ‘প্রত্যাবর্তন হাসিনা’ লেখাটির পরিবর্তে ‘খুনি’ শব্দ সংযুক্ত করে একটি ছবি শেয়ার করেন। এ সময় আত্মগোপনে থাকা ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মীও বিভিন্ন বার্তা পোস্ট করতে থাকেন।
এর মধ্যেই পুলিশ অভিযান শুরু করে। স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, আটক ব্যক্তিদের বেশিরভাগই ছাত্রলীগ, যুবলীগ এবং আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী বা সমর্থক।
তবে ওসি জসীমউদ্দিন দাবি করেছেন, সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া কোনো স্ট্যাটাস বা পোস্টের সঙ্গে আটক বা গ্রেপ্তারের সম্পর্ক নেই। তার ভাষ্য, এটি নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা কার্যক্রমের অংশ। সারাদেশে সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা প্রতিহত করতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
আটক ব্যক্তিদের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে অপারগতা প্রকাশ করে তিনি উল্লেখ করেন, কারও বিরুদ্ধে ডেভিল হান্ট, কারও বিরুদ্ধে মাদক কিংবা কিশোর গ্যাং-সংক্রান্ত মামলায় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজন অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকায় তাদের পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ও বিবেচনা করা হচ্ছে।




