ফুলবাড়িয়া
বিদ্যালয়ের ১৫ গাছ বিক্রি করলেন প্রধান শিক্ষক, ক্ষুব্ধ অভিভাবক-শিক্ষার্থী

ছবি: আগামীর সময়
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় রাধাকানাই ইউনিয়নের রঘুনাথপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকা মূল্যের ১৫টি গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. কামরুল হোসেনের বিরুদ্ধে।
ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই গোপনে কাঁঠাল, আম, জাম, বেল ও রেইনট্রিসহ বিভিন্ন ফলদ গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। বিষয়টি জানাজানি হলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।
গাছ কাটার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আজ শনিবার বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান ভূঞা।
তিনি জানিয়েছেন, বিদ্যালয়ের গাছ কাটার ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে জমি নিয়ে কিছু জটিলতা রয়েছে। এ বিষয়ে রবিবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের কাছে চাওয়া হবে লিখিত ব্যাখ্যা।
১৯৬৫ সালে ২ একর ৩৫ শতাংশ জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকসহ ১২ জন শিক্ষক কর্মরত। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৪০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের সামনে বড় খেলার মাঠের পূর্ব পাশে সারিবদ্ধভাবে বহু পুরনো কাঁঠালগাছসহ বিভিন্ন ফলদ গাছ ছিল। এসব গাছের ছায়ায় বসে শিক্ষার্থীরা বই পড়া, আড্ডা ও গল্প করত। মৌসুমে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা গাছ থেকে ফল পেড়ে খেত।
জানা গেছে, গত ২৬ এপ্রিল আবু বক্কর ও আমিনুল ইসলাম নামের দুই ব্যক্তি গাছগুলো কেটে নিয়ে যান। বর্তমানে বিদ্যালয় মাঠের পশ্চিম সীমানায় ১২ থেকে ১৫টি গাছের কাটা গোড়া দেখা গেছে। মাঠের এক পাশে পড়ে আছে ছোট ছোট ডালপালার স্তূপ। কাটা গাছগুলোর মধ্যে আম, কাঁঠাল ও বেলগাছ বেশি ছিল।
এদিকে সম্প্রতি বিদ্যালয়ের জমি পরিমাপ করে দেখা যায়, অন্তত ৪০ শতাংশ জমি নেই বিদ্যালয়ের দখলে। পূর্ব, পশ্চিম ও দক্ষিণ পাশের কিছু জমি বেদখল হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধেও বিদ্যালয়ের জমি দখল করে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, জমি উদ্ধার না করেই প্রায় ১৯ লাখ টাকার সরকারি প্রকল্পে বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর ও গেট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরই মধ্যে মাঠের এক পাশে রাখা হয়েছে ইট-বালু। বিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষক মন্তব্য করেন, যে অংশ দিয়ে বাউন্ডারি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে, সেই জমির কাগজপত্র নিয়েই রয়েছে জটিলতা।
একাধিক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ফলদ গাছ কাটা কোনোভাবেই ঠিক হয়নি। তাদের সন্তানরা মৌসুমে গাছ থেকে ফল খেত। বেদখল জমি উদ্ধার করার পর সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করলে ভালো হতো। এখন বাউন্ডারি হয়ে গেলে ভবিষ্যতে বিদ্যালয়ের জমি উদ্ধারে তৈরি হতে পারে জটিলতা।
আবু বক্কর সিদ্দিক দাবি করেন, বিদ্যালয়ের জমি তাদের পরিবারের দেওয়া এবং গাছগুলো তাদের জমির অংশে ছিল। বাউন্ডারি নির্মাণ হবে বলে তারা গাছ কেটে নিয়েছেন। তার ভাষ্য, বিদ্যালয়ের জমি অন্য দাগে রয়েছে।
তবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. কামরুল হোসেন দাবি করেন, গাছগুলো বিদ্যালয়ের জমিতে থাকলেও বিক্রি করা হয়নি। যারা জমি দিয়েছেন, তারাই গাছ কেটে নিয়েছেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, গাছগুলোর মূল্য ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার বেশি হবে না। তবে গাছ কাটার আগে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া হয়নি এবং এ বিষয়ে কোনো রেজল্যুশনও করা হয়নি বলে তিনি স্বীকার করেন।




