‘১০ লাখ টাকা’ চাঁদা চেয়েছিলেন এনসিপি নেতা কাফি, মামলা

নুরুজ্জামান কাফি
পটুয়াখালীর খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জমি দখল করে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছিলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও এনসিপি নেতা নুরুজ্জামান কাফি। গত ১৬ জুলাই সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবি করেন। সেই ঘটনার জের ধরে এবার কাফি, তার বাবা এ বি এম হাবিবুর রহমান এবং বড় ভাই মামুনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
গত রবিবার বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম কলাপাড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।
আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কলাপাড়া থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার নম্বর-৭৩৯। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত ১১ জুলাই সকাল সোয়া ১০টার দিকে নুরুজ্জামান কাফি, তার বাবা এ বি এম হাবিবুর রহমান ও বড় ভাই মামুন ভেকু মেশিন, ভ্যান, কোদাল ও খোয়া নিয়ে খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের রজপাড়া মৌজার বিএস ১২ নম্বর খতিয়ানের ৫৯ নম্বর দাগভুক্ত জমিতে প্রবেশ করেন। সেখানে জমির মাটি কেটে আকার-আকৃতি পরিবর্তন করে রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা করা হয়। খবর পেয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম পাঁচজন সহকারী শিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দিলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ সময় নুরুজ্জামান কাফি প্রধান শিক্ষকের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে শিক্ষক ও অন্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, ধাক্কাধাক্কি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, পরে অভিযুক্তরা প্রায় ৬ শতাংশ জমির মাটি কেটে ট্রলিযোগে অন্যত্র সরিয়ে নেন এবং ওই স্থানে খোয়া ফেলে রাস্তা নির্মাণ করেন। এতে বিদ্যালয়ের প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম বলেছেন, রজপাড়া মৌজায় বিদ্যালয়ের নামে মোট ২১ দশমিক ৭৬ একর জমি রেকর্ডভুক্ত রয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এসব জমি ভোগদখল করে আসছে। তিনি জানান, বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্তরা রাজি না হওয়ায় থানায় যান। পরে থানা থেকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দিলে আদালতে মামলা দায়ের করেন।
উল্লেখ্য, গত ১৬ জুলাই কাফি দাবি করেছিলেন, জমিটির প্রকৃত মালিকরা দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে সুপ্রিম কোর্টের রায় পেয়েছেন। তিনি তাদের কাছ থেকে বায়নামূলে জমি কিনেছেন। মালিকপক্ষ জমি বুঝিয়ে দেওয়ার পরই তিনি রাস্তা নির্মাণ করেছেন বলে দাবি করেছিলেন। একই সঙ্গে তিনি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিমের সঙ্গে তার কোনো সাক্ষাৎ বা কথা হয়নি বলেও উল্লেখ করেন। তার দাবি, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
এ বিষয়ে মামলার পরও নুরুজ্জামান কাফি তার আগের অবস্থানেই অনড়। তিনি বলেছেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।’
কলাপাড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. ফেরদৌস মিয়া জানান, আদালত মামলাটি গ্রহণ করে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কলাপাড়া থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।





