দুই মাস ধরে বেতন পান না তিন শতাধিক মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারী

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বগুড়ার আদমদীঘিতে ১৪টি এমপিওভুক্ত মাদ্রাসার প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষক-কর্মচারী গত মে ও জুন মাসের বেতন পাননি। টানা দুই মাস বেতন-ভাতা না পাওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন তারা। কবে নাগাদ বেতন দেওয়া হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোনো দপ্তর থেকে স্পষ্ট কোনো তথ্যও জানানো হয়নি। শিক্ষকদের অভিযোগ, গত কোরবানির ঈদের বোনাসও তারা ঈদের আগে তুলতে পারেননি। দীর্ঘ ছুটি শেষে বোনাসের টাকা হাতে পেয়েছেন।
অন্তাহার ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার মৌলভী শিক্ষক মজিবুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা মাদ্রাসা থেকে এক টাকাও বেতন পাই না। তাই সরকারি টাকার দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়। মাদ্রাসার এবতেদায়ী (প্রাথমিক স্তর) শাখার শিক্ষকদের বেতন সর্বোচ্চ ১৩ থেকে ১৪ হাজার টাকা। এই সামান্য টাকা দিয়ে সংসার চালাতে হয়। এরপর পর পর দুই মাস ধরে বেতন পাইনি। বেশির ভাগ শিক্ষক ধারদেনা করে সংসার চালাতে বাধ্য হচ্ছেন।’
উপজেলার বশিকোড়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুল জব্বার মন্তব্য করেন, ‘আমাদের দেখার মতো কেউ নেই। পর পর দুই মাস ধরে বেতন না পেলে শিক্ষকরা কেমন করে তাদের সংসারের ব্যয়ভার মেটাবেন?’
এ বিষয়ে আদমদীঘির একাডেমিক সুপারভাইজার জাহিদুর রহমানের মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বেতন না পাওয়ার কারণ তিনি জানেন না। তবে শিক্ষকদের বেতন না পাওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস জানিয়েছে, আদমদীঘির ৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় দাখিল ও আলিম পর্যায়ের মোট ১৪টি এমপিওভুক্ত মাদ্রাসা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষক ও কর্মচারী কর্মরত। অধিকাংশ মাদ্রাসায় শিক্ষক-কর্মচারীরা প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো ধরনের বেতন-ভাতা পান না। ফলে সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া বেতনের ওপরই তাদের পুরোপুরি নির্ভর করতে হয়। টানা দুই মাস বেতন না পাওয়ায় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে অনেক শিক্ষকই ধারদেনা করে সংসার চালাচ্ছেন।





