Agamir Somoy E-Paper
মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬
আগামীর সময়
ঔষধি গাছপ্রেমী আবদুল কাদের
মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় সারা দেশ

৫০ বছর ধরে বাদাম বিক্রি, তবু নিজের ঘর হলো না নিখিলের

এস কে সোহেল, বাগেরহাট
agamir somoy
প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯:১৪
শেয়ার করুন:
৫০ বছর ধরে বাদাম বিক্রি, তবু নিজের ঘর হলো না নিখিলের

নিখিল হালদার। ছবি-আগামীর সময়

বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছে শরীর, মুখে-কপালে বয়সের ছাপ, পড়ে গেছে দাঁত। আগের মতো দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতেও কষ্ট হয়। তবু থেমে নেই জীবনের সংগ্রাম। হাতে বাদামের ঝুড়ি নিয়ে প্রতিদিন ছুটে চলেন এক হাট থেকে অন্য হাটে। কখনো রোদ, কখনো বৃষ্টি— সবকিছু উপেক্ষা করে বাদাম বিক্রি করেই চালাতে হয় সংসার। জীবনের প্রায় ৫০টি বছর এভাবেই কেটে গেছে তার জীবন। অথচ শেষ বয়সে এসেও নিজের জন্য গড়ে তুলতে পারেননি কোনো সম্পদ, নেই নিজের থাকার জায়গাটুকুও। নিখিল হালদারের বয়স ৬৫ বছর।

বাগেরহাটের নাগেরবাজার এলাকায় অন্যের জায়গায় বসবাস করেন নিখিল হালদার। তার গ্রামের বাড়ি বরিশালের স্বরূপকাঠি এলাকায়। ১৯৭১ সালের পর ছোটবেলায় বাগেরহাটে আসেন তিনি। অভাবের সংসারে মা-বাবার অসহায়ত্ব আর পেটের দায়ে শৈশবেই হারিয়ে যায় লেখাপড়ার স্বপ্ন। এরপর জীবিকার সন্ধানে শুরু করেন বাদাম বিক্রি। সেই যে শুরু, তারপর কেটে গেছে প্রায় অর্ধশতাব্দী। সময় বদলেছে, বয়স বেড়েছে, শরীর ভেঙেছে, কিন্তু বদলায়নি তার জীবনের বাস্তবতা।

মঙ্গলবার ও শুক্রবার বাগেরহাটের দরগা-মাজারের হাটে বাদাম বিক্রি করেন নিখিল। সপ্তাহের অন্য দিনগুলোয় বাদামের ঝুড়ি নিয়ে যেতে হয় বিভিন্ন এলাকায়। দিনের পর দিন দাঁড়িয়ে বাদাম বিক্রি করতে করতে হাতের তালু শক্ত হয়ে গেছে। এই হাতেই বাদাম মাখিয়ে তৈরি করেন নিজের বিশেষ স্বাদের বাদাম, যা খেতে দূরদূরান্ত থেকেও ছুটে আসেন ক্রেতারা। স্থানীয় অনেকের কাছে তিনি শুধু একজন বাদাম বিক্রেতা নন, শৈশব থেকে পরিচিত এক প্রিয় মুখ।

নিখিল হালদার বললেন, মাত্র ২০০ টাকা পুঁজি নিয়ে বাদামের ব্যবসা শুরু করেছিলাম। এর মধ্যে ১২০ টাকা দিয়ে কিনেছিলেন একটি কড়াই। শুরুর দিকে হাটের দিনে ২০০ থেকে ৪০০ টাকার বাদাম বিক্রি হতো। বর্তমানে মঙ্গল ও শুক্রবার দরগা-মাজারের হাটে ৩-৪ হাজার টাকার বাদাম বিক্রি করেন। অন্য দিনগুলোয় বিক্রি হয় দেড়-২ হাজার টাকার মতো। তবে এই টাকা পুরোটাই তার লাভ নয়। বাদাম কেনাসহ অন্যান্য খরচ বাদ দিয়ে যা থাকে তা দিয়েই চলে সংসার।


আরও পড়ুন

১৩৭ বিষধর সাপ নিয়ে বিপাকে বন বিভাগ

০৩ নভেম্বর ২০২৬

তিনি বললেন, ‘ছোটবেলায় পেটের দায়ে বাদাম বিক্রি শুরু করেছিলাম। তখন মা-বাবা অসহায় ছিলেন, লেখাপড়া করার সুযোগ হয়নি। প্রথমে ২০০ টাকা নিয়ে ব্যবসা শুরু করি। সেই থেকে আজ পর্যন্ত বাদাম বিক্রি করেই বেঁচে আছি। জীবনে অনেক কষ্ট করেছি, কিন্তু সেই কষ্টের যেন শেষ নেই।’

নিখিল হালদারের সংসারে স্ত্রী ও দুই ছেলে রয়েছেন। এক মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। দুই ছেলে শিমুল ও পলাশ এখনো বেকার। সন্তানদের বড় করা, মেয়ের বিয়ে দেওয়া এবং পরিবারের ভরণপোষণ— সবকিছু সামলাতে জীবনের দীর্ঘ সময় ব্যয় করেছেন তিনি। পরিবারের জন্য সবকিছু করতে গিয়ে নিজের ভবিষ্যতের কথা ভাবার সুযোগ হয়নি। আজ বার্ধক্যে এসে সেই বাদাম বিক্রিই তার বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন।

তিনি আরও বললেন, ‘ঝড়-বৃষ্টি হলেও আমার ছুটি নেই। পরিবারের জন্য আমাকে বাদাম বিক্রি করতেই হবে। এই ব্যবসা করেই ছেলেমেয়েদের বড় করেছি, মেয়ের বিয়ে দিয়েছি। এখন বয়স হয়েছে, আগের মতো আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারি না। সারা দিন দাঁড়িয়ে থাকলে হাত-পা ব্যথা করে। তবুও সংসারের জন্য কষ্ট করতেই হচ্ছে।’

বয়সের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে শারীরিক কষ্ট, অন্যদিকে বেড়েছে ব্যবসার খরচও। বর্তমানে তেল-বাদামের কেজি কিনতেই খরচ হচ্ছে প্রায় ৪০০ টাকা। ফলে আগের তুলনায় লাভ কমে গেছে। দিনভর পরিশ্রম করেও সংসারের সব চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। নিজের নামে নেই কোনো জমি বা বাড়ি। অন্যের জায়গায় বসবাস করেই কাটছে তার জীবন।

তবে জীবনের এত প্রতিকূলতার মধ্যেও নিখিল হালদারের একটি পরিচয় রয়েছে, যা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। তার হাতে তৈরি বাদামের স্বাদ ছড়িয়ে পড়েছে ক্রেতাদের মুখে মুখে। কেউ ছোটবেলা থেকে তার বাদাম খাচ্ছেন, কেউ আবার দূর থেকে এসে খোঁজ করছেন সেই পরিচিত বাদামের। স্থানীয়দের কাছে তার বাদাম যেন শুধু মুখরোচক খাবার নয়, স্মৃতি আর ভালো লাগারও অংশ।

নিখিল বললেন, ‘৫০ বছর বাদাম বিক্রি করে সংসার চালিয়েছি। সবকিছুই পরিবারের জন্য করেছি। নিজের জন্য কিছু করতে পারিনি, কোনো সম্পদও গড়তে পারিনি। এখন আমার আর কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। কোনো অর্থ-সম্পদেরও প্রয়োজন নেই। এভাবেই যত দিন বেঁচে থাকা যায়, সেটাই ভালো।’

স্থানীয় হৃদয় বললেন, ‘আমি দাদুর কাছ থেকে বাদাম খেয়ে যাই। তার বানানো বাদাম খুব ভালো লাগে। প্রায় ১০-১২ বছর ধরে দূর থেকে এসে তার বাদাম খাই। স্বাদটা আমার কাছে বেশ ভালো লাগে।’

মেহেদী হাসান বললেন, ‘আমার বাড়ি পাশের এলাকায়। ছোটবেলা থেকেই এই মাজারে চলাফেরা, এখানেই বড় হয়েছি। ছোটবেলা থেকে নিখিল কাকাকে এখানে বাদাম বিক্রি করতে দেখছি। তার বাদাম খুব ভালো লাগে। ছোটবেলা থেকে খাচ্ছি, এখনো খাই। পরিচিত কেউ এলে তাকেও বলি, নিখিল কাকার হাতের বানানো বাদাম খুবই সুস্বাদু।’

স্থানীয় দোকানি মুন্না শেখ বললেন, নিখিল কাকা দীর্ঘদিন ধরে দরগার মোড়ে বাদাম বিক্রি করেন। আমরা প্রায়ই বন্ধুদের সঙ্গে সেখানে আড্ডা দিতে যাই। আগে তার কাছ থেকে বাদাম কিনে খাই, তারপর অন্য কাজে যাই। ছোটবেলা থেকেই তাকে দেখে আসছি। তার বাদাম খুবই সুস্বাদু, এ জন্য দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসে। কিছুদিন আগে বরিশালের স্বরূপকাঠি থেকে কয়েকজন এসে তার খোঁজ করছিলেন। তারা নিখিল কাকাকে চিনতেন এবং তার বাদাম খেতে চেয়েছিলেন। পরে আমি তাদের দেখিয়ে দিয়েছি, কোথায় তিনি বসেন।

ক্রেতা সজীব বললেন, ‘এক ভাইয়ের সঙ্গে দরগায় ঘুরতে এসে তার কাছ থেকে বাদাম খেয়েছিলাম। খেয়ে খুব মজা পেয়েছি। এরপর মাঝেমধ্যে এখানে ঘুরতে এলে তার কাছ থেকে বাদাম কিনে খাই। অনেক দিন ধরে তাকে এখানে বাদাম বিক্রি করতে দেখছি। তার বাদামের স্বাদ সত্যিই ভালো।’

মামুন বললেন, ‘আমি সৌদি আরবে ১০ বছর ছিলাম, তিন বছর আগে দেশে ফিরেছি। দেশে ফিরে এখনো দেখি কাকা বাদাম বিক্রি করছেন। তিনি খুব ভালো মানুষ আর তার বানানো বাদামও খুব ভালো।’

দীর্ঘ ৫০ বছরের পরিশ্রমের কথা বলতে গিয়ে নিখিল হালদারের কণ্ঠে ফুটে ওঠে আক্ষেপ। জীবনের সিংহভাগ সময় পরিবারের জন্য ব্যয় করলেও নিজের জন্য কিছুই করতে পারেননি বলে মনে করেন তিনি। তার কাছে এখন আর বড় কোনো স্বপ্ন নেই, নেই অর্থ-সম্পদ গড়ার প্রত্যাশাও।

নিখিল হালদারবাগেরহাট
    আগামীর সময় ইপেপার
    শেয়ার করুন:
    জমি বিক্রি নিয়ে বিরোধে হামলায় যুবক নিহত

    জমি বিক্রি নিয়ে বিরোধে হামলায় যুবক নিহত

    শ্যামলকে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে আততায়ীদের হাতে তুলে দেন বিশ্বস্ত মাঝি

    শ্যামলকে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে আততায়ীদের হাতে তুলে দেন বিশ্বস্ত মাঝি

    মাতিস রঙের সুন্দর

    মাতিস রঙের সুন্দর

    সোসাইটি অব মেডিকেল বায়োকেমিস্টের নতুন কমিটি

    সোসাইটি অব মেডিকেল বায়োকেমিস্টের নতুন কমিটি

    রহস্যজনক আজাদ পাটওয়ারীর সন্দেহজনক লেনদেন

    রহস্যজনক আজাদ পাটওয়ারীর সন্দেহজনক লেনদেন

    আফ্রিকার শহরে শিকড়ের সুর: বন্ধুত্বের ডাকে নাইরোবি শিল্পী গোষ্ঠীর অনন্য আয়োজন

    আফ্রিকার শহরে শিকড়ের সুর: বন্ধুত্বের ডাকে নাইরোবি শিল্পী গোষ্ঠীর অনন্য আয়োজন

    শিশুদের সৃজনশীল বিকাশে কাজ করার প্রত্যয়

    শিশুদের সৃজনশীল বিকাশে কাজ করার প্রত্যয়

    ২০২৭ সালের ছুটির তালিকা অনুমোদন, সরকারি ছুটি কত দিন?

    ২০২৭ সালের ছুটির তালিকা অনুমোদন, সরকারি ছুটি কত দিন?

    তথ্য চাওয়া হচ্ছে পুলিশের, বাদ পড়ছেন না স্কুলবন্ধুও

    তথ্য চাওয়া হচ্ছে পুলিশের, বাদ পড়ছেন না স্কুলবন্ধুও

    সবার আগে দরকার...

    সবার আগে দরকার...

    কিস্তি না দেওয়ায় গৃহবধূকে পুলিশে দিলেন এনজিওকর্মীরা

    কিস্তি না দেওয়ায় গৃহবধূকে পুলিশে দিলেন এনজিওকর্মীরা

    সড়ক দুর্ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর মৃত্যু, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ

    সড়ক দুর্ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর মৃত্যু, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ

    শ্রমিক অসন্তোষ : ইন্ধনের প্রশ্নে সরকার-বিরোধী দল উভয়ের এক সুর

    শ্রমিক অসন্তোষ : ইন্ধনের প্রশ্নে সরকার-বিরোধী দল উভয়ের এক সুর

    দরপত্র ছাড়াই স্কুলের নির্মাণসামগ্রী বিক্রি করে শিক্ষকদের আনন্দ ভ্রমণের অভিযোগ

    দরপত্র ছাড়াই স্কুলের নির্মাণসামগ্রী বিক্রি করে শিক্ষকদের আনন্দ ভ্রমণের অভিযোগ

    সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক তাজিম, সদস্য সচিব রাকিব

    সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক তাজিম, সদস্য সচিব রাকিব