১৩৭ বিষধর সাপ নিয়ে বিপাকে বন বিভাগ
- কবে কোথায় অবমুক্ত হবে সেই সিদ্ধান্ত হয়নি

ছবি: আগামীর সময়
বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার করা ১৩৭টি সাপ কোথায় ও কীভাবে অবমুক্ত করা হবে, তা নিয়ে বিপাকে পড়েছে হবিগঞ্জ বন বিভাগ। এর মধ্যে অধিকাংশই বিষধর গোখরা। একসঙ্গে এতগুলো সাপ বনে ছেড়ে দিলে আশপাশের লোকালয়ে কোনো ঝুঁকি তৈরি হবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাই চুনারুঘাটের রেমা-কালেঙ্গা বন্য প্রাণী অভয়ারণ্যে নিয়েও শেষ পর্যন্ত সাপগুলো অবমুক্ত করা হয়নি। বর্তমানে সেগুলো হবিগঞ্জ বন বিভাগের রেসকিউ সেন্টারে রাখা হয়েছে।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার করা সাপের মধ্যে পদ্মা গোখরা ৭০টি, খইয়া গোখরা ৬০টি, দাঁড়াশ ৫টি, মা দাঁড়াশ ১টি ও মা খইয়া গোখরা ১টি। এ ছাড়া রয়েছে সাপের পাঁচটি ডিম। সব মিলিয়ে ১৩৭টি সাপ ও ডিম উদ্ধার করা হয়েছে। এর অধিকাংশই বাচ্চা সাপ।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাধারণত ৫ থেকে ১০টি সাপ উদ্ধারের পরপরই বনে অবমুক্ত করা হয়। কিন্তু এবার সংখ্যাটি অনেক বেশি। এর মধ্যে মা সাপ ও ডিম থাকায় অবমুক্তির বিষয়টি আরও সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করতে হচ্ছে। রেমা-কালেঙ্গা অভয়ারণ্যের আশপাশে কালেঙ্গা, রেমা ও চনবাড়ি এলাকায় জনবসতি রয়েছে। একসঙ্গে এতগুলো বিষধর গোখরা অবমুক্ত করলে স্থানীয় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে।
হবিগঞ্জের বন্য প্রাণী কর্মকর্তা মাহমুদ হোসেন বলেছেন, সাপগুলো বর্তমানে বন বিভাগের হেফাজতে রেসকিউ সেন্টারে রাখা হয়েছে। একসঙ্গে এতগুলো সাপ অবমুক্ত করলে মানুষের জান-মালের ক্ষতির আশঙ্কা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা বলছেন, গোখরা সাপ ইঁদুর দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই সাপগুলো প্রকৃতিতে ফিরিয়ে দেওয়া প্রয়োজন। তবে লোকালয় থেকে দূরে উপযুক্ত আবাসস্থল নির্বাচন করে পর্যায়ক্রমে ও আলাদা এলাকায় অবমুক্ত করা হলে ঝুঁকি কমতে পারে। সাপের ডিম ফোটার জন্যও উপযুক্ত তাপমাত্রা ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
বন বিভাগ জানিয়েছে, আপাতত সাপগুলোর স্বাস্থ্য পরীক্ষা, খাবার ও তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ পাওয়ার পর পর্যায়ক্রমে সেগুলো অবমুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কবে এবং কোথায় সাপগুলো ছাড়া হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।




