কক্সবাজারে সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ শিক্ষার্থীদের

শিক্ষামন্ত্রী এহেসানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবিতে কক্সবাজারে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীরা।
প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী চলা এ কর্মসূচিতে শহরের প্রধান সড়কে যান চলাচল অচল হয়ে পড়ে। এতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও সাধারণ মানুষ।
আজ মঙ্গলবার দুপুর ২টা থেকে কক্সবাজার শহরের গুনগাছতলা এলাকায় প্রধান সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।
এ সময় তারা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন এবং বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানান।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক পরীক্ষা এবং শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন বিষয়ে নেওয়া সিদ্ধান্তে তারা ক্ষুব্ধ। তাদের দাবি, শিক্ষার্থীদের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা না করেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কক্সবাজার সিটি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী জিহাদুল ইসলাম বলেছেন, শিক্ষামন্ত্রী যতক্ষণ পর্যন্ত পদত্যাগ না করবেন, ততক্ষণ আমাদের আন্দোলন চলবে।
কক্সবাজার সরকারি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ইয়াসির বললেন, বন্যা ও জলাবদ্ধতার মধ্যে অনেক কষ্ট করে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে গেছে। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। তাই আমরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছি।
একই কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী শাহরিয়ার মোহাম্মদ আতিফ বলেছেন, শিক্ষামন্ত্রী পরীক্ষা কঠিন করার দিকে মনোযোগ না দিয়ে শিক্ষাক্রম উন্নয়নে গুরুত্ব দিলে সেটাই শিক্ষার্থীদের জন্য ভালো হতো।
এদিকে শিক্ষার্থীদের অবরোধের কারণে কক্সবাজার শহরের প্রধান সড়কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। সন্ধ্যা পর্যন্ত যান চলাচল ব্যাহত থাকায় অফিসফেরত মানুষ, পর্যটক এবং সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মাহমুদুল হাসান বললেন, আমরা বারবার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। তারা তাদের সুনির্দিষ্ট দাবিগুলো উত্থাপন করেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ কাজ করছে।
পরে সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মামনুন আহমেদ অনীক এবং পুলিশের অনুরোধে শিক্ষার্থীরা অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।
এ সময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা তাদের দাবিসংবলিত একটি স্মারকলিপি এডিএমের হাতে তুলে দেন।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মামনুন আহমেদ অনীক শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্মারকলিপিটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
এরপরই শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি স্থগিত করে সড়ক ছেড়ে দিলে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।




