পদ্মা-আড়িয়াল খাঁর ভাঙন
নির্ঘুম রাত কাটছে ১৫ গ্রামের বাসিন্দাদের
- বিলীন বসতভিটা, ফসলি জমি
- ঝুঁকিতে স্কুল, মসজিদ, কবরস্থান ও বাজার
- দুই মাসে ৫০০ মিটার পাকা সড়ক নদীতে
- স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি স্থানীয়দের

পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁর ভাঙনের কবলে পড়েছে ফরিদপুরের ১৫ গ্রামের বাসিন্দারা। ছবি: আগামীর সময়
আজ যে ভিটায় ঘর, কাল সেই ভিটাই হয়তো থাকবে নদীর পেটে। পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁর ভাঙনে এমনই আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে ফরিদপুরের সদরপুর ও সদর উপজেলার অন্তত ১৫ গ্রামের বাসিন্দাদের। প্রতিদিনই নদীতে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি ও পাকা সড়ক। ভাঙন এগিয়ে আসায় ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন অনেকে। কারও উঠান, কারও ফসলের মাঠ, আবার কারও চলাচলের সড়ক এরই মধ্যে হারিয়ে গেছে নদীতে। ঝুঁকিতে রয়েছে মসজিদ, স্কুল, কবরস্থান, এতিমখানাসহ বিভিন্ন স্থাপনা।
সদরপুর উপজেলার চরমানাইর ইউনিয়নের আফসারডাঙ্গী এলাকায় আড়িয়াল খাঁ নদের ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এরই মধ্যে নদে বিলীন হয়েছে তিনটি মসজিদ, একটি স্কুল, কবরস্থানসহ বিভিন্ন স্থাপনা। বিলীন হয়েছে হাজার হাজার বিঘা কৃষিজমি। দ্রুত ভাঙন ঠেকানো না গেলে কাছের ঢাকা-ভাঙ্গা মহাসড়কও ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের। সেখানে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
সদরপুরের আকোটেরচর ইউনিয়নের শয়তানখালী ঘাট, ছলেনামা, আকোট, কালীখোলা, মোল্লাকান্দা ও খালাসীগ্রাম এবং ঢেউখালী ইউনিয়নের চন্দ্রপাড়া, চরবলাশিয়া ও মুন্সিরচর এলাকায় চলছে ভাঙন। শয়তানখালী ঘাট এলাকায় গত দুই মাসে নদীতে বিলীন হয়েছে প্রায় ৫০০ মিটার পাকা সড়ক। একটি ইটভাটারও বড় অংশ চলে গেছে নদীতে। ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে আকোট গ্রামের আদর্শ গ্রাম ও গুচ্ছগ্রামের দুই শতাধিক পরিবার নতুন করে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, ব্যবস্থা না নিলে হুমকিতে পড়বে আকোট জনসংঘ উচ্চবিদ্যালয়, দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পিয়াজখালী বাজারও।
ঢেউখালী ইউনিয়নের চরবলাশিয়া গ্রামে আড়িয়াল খাঁ নদের ভাঙনে এরই মধ্যে বিলীন হয়েছে অর্ধশতাধিক বসতঘর। হুমকিতে রয়েছে চরবলাশিয়া মোল্লাগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
অন্যদিকে, সদর উপজেলার নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের ইউসুফ মাতুব্বরের ডাঙ্গী ও আসমত আলীর ডাঙ্গী এলাকায় পদ্মার ভাঙনে নদীতে গেছে কয়েকশ একর ফসলি জমি। ভাঙনের কারণে ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন বাসিন্দাদের কেউ কেউ। জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হয়েছে কিছু এলাকায়।




